সিলেটে আবাসিক হোটেলে তরুণ-তরুণীর লাশ: পরিবার সম্পর্ক না মানায় হত্যার পর আত্মহত্যা
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সিলেট নগরের সোবহানীঘাটের একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে হোটেল মেহেরপুরের একটি কক্ষ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগর গ্রামের মিলন পালের মেয়ে রুমী পাল এবং একই উপজেলার জগন্নাথবাড়ী গ্রামের মতিলাল দেবের ছেলে মিন্টু দেব। রুমী ব্র্যাক পরিচালিত স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই গত রোববার হোটেল কক্ষে প্রেমিকাকে হত্যা করে প্রেমিক মিন্টু আত্মহত্যা করেন। গত রোববার সকালেই মিন্টু ও রুমী স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২০৬ নম্বর কক্ষের তালা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় মিন্টু দেব আর বিছানার ওপর থেকে রুমী পালের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থাপক আবদুল ওয়াদুদকে আটক করা হয়েছে। ওসি আরো বলেন, ব্যবস্থাপক আবদুল ওয়াদুদ কোনো ধরনের পরিচয়পত্র না রেখেই হোটেল কক্ষ ভাড়া দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, নিহতদের কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। ওই নোটের নামের সঙ্গে হোটেল রেজিস্টারে থাকা নামের কোনো মিল নেই। ফলে তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নোটে আত্মহত্যার কথা লেখা রয়েছে বলে জানান তিনি। ছেলের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর মেয়েকে সম্ভবত শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যোগ করেন অতিরিক্ত উপকমিশনার। সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন দাস জানান, ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মেয়েটির আত্মীয় এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তবে ছেলেটির আত্মীয়দের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।