ধানখালী ইউনিয়নের সাড়ে তিন হাজার একর জমি অধিগ্রহণ ॥ ওয়ার্ড সীমানা পুন:নির্ধারণের দাবি ॥ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাকচ
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের আগামী নির্বাচন এখন জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানামুখি প্রচার-প্রচারণা গড়াচ্ছে। ধানখালী ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সীমানা পুন:নির্ধারণের দাবিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিবের কাছে আবেদন করেছেন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ গাজী। তবে চেয়াম্যানের এমন দাবীকে কিছুটা অসত্য আখ্যায়িত করে বিদ্যমান সীমানায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের করেছেন সম্ভাব্য ইউপি প্রার্থীরা। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিন হাজার পাঁচ শ’ ৮২ দশমিক ৫৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করায় সীমানা নির্র্ধার করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান লতিফ গাজী দাবি করেন, ১৯৬১ সালে সীমান নির্ধারন করে এই ইউনিয়নটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে পুন:রায় নতুন সীমানা নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে এ ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া ও মধুপাড়ায় (আট ও নয় নম্বর ওয়ার্ড থেকে) ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে ১০১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও আরপিসিএল নামের অপর একটি সংস্থা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে লোন্দা মৌজায় (চার, পাঁচ, ছয় ও আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে) ৮১৬ দশমিক ৫৯ একর, ধানখালী মৌজায় ১৮৪ দশমিক ৫৪ একর ও নিশানবাড়িয়া মৌজায় ৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও ৪৯০ দশমিক ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। একই ইউনিয়নের ধানখালী মৌজা থেকে অপর প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট আরও ১০১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে মানুষের বসতি স্থানান্তর করছে। এরফলে সব কয়টি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
আগামী চার/পাঁচ মাসের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এ বিষয়টিকে কিছুটা অসত্য দাবি করে জানান, ইউপি নির্বাচন বিলম্বিত করতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের দাবি জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কোন ওয়ার্ডের মানুষ অপর ওয়ার্ডে স্থানচ্যুত হয়নি। ধানখালী ইউনিয়ন তহশীলের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের দেয়া তথ্যমতে ধানখালী ইউনিয়নের মোট আয়তন নয় হাজার তিন শ’ ৬১ একর।