প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্রীকে ক্ষুরের আঘাতের ঘটনায় মামলা
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ময়মনসিংহে কলেজছাত্রীকে খুর দিয়ে আঘাত করে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহম্মেদ জানান। ওসি বলেন, ওই কলেজছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল নিকট আত্মীয় ফুলবাড়িয়া উপজেলার তেজপাটুলী গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে আবুল কাশেম। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়েটির কাছে ফোন দিয়ে টাকা ধার চায় কাশেম। মেয়েটি শহরের গোলকীবাড়ি এলাকার মেস থেকে বের হয়ে গাঙ্গিনারপাড়ে কাশেমের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় কাশেম তাকে একটি ঘরে নিয়ে খুর দিয়ে গলায়, হাত ও মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।” পরে বান্ধবীরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে বলে জানান তিনি। এঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু আইন এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ কাশেমকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। ওই কলেজছাত্রীর মা বলেন, কাশেম প্রায় সময় তার মেয়েকে বিরক্ত করত। মেয়েকে কাশেমের কাছে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে শহরের গাঙ্গিনার পাড়ে এই ঘটনার খবর পেয়ে সহপাঠীরা ওই কলেজছাত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত কলেজছাত্রী ময়মনসিংহ শহরের একটি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিনি শহরের গোলকিবাড়ী এলাকায় একটি মেসে থাকেন। পুলিশ জানায়, ওই তরুণী ময়মনসিংহ শহরের একটি কলেজে পড়েন। প্রেম ও বিয়ের জন্য কয়েক বছর ধরে আবুল কাশেম নামের তাঁর এক মামাত ভাই তাঁকে উত্ত্যক্ত করছিল। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় কাশেম। গত শুক্রবার কৌশলে ডেকে নিয়ে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় কাশেম। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহাবুব হোসেন জানান, ওই ছাত্রীর কানের নিচে, বুকে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে ক্যাজ্যুয়ালটি ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ওই কলেজছাত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবুল কাশেম তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। বিশেষ প্রয়োজনে ২০০ টাকা ধার চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে তাঁকে শহরের গাঙ্গিনারপাড়ে ডেকে আনে। ডেকে এনে আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেয় কাশেম। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষুর দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায় কাসেম। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এস এ নেওয়াজী জানান, আহত ছাত্রীকে দেখতে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, তাঁরা দুজন পরিচিত এবং তাদের মধ্যে হয়তো সম্পর্ক ছিল। মনোমালিন্য হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল কাশেমকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।