পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সুলতানগজ্ঞ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মই যেখানে নিয়ম
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

অনিয়মই এখন পরিনত হয়েছে নিয়মে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হচ্ছে বিদ্যালয়। ইচ্ছেমত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা। নেই নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমসহ শরীরচর্চা, জাতীয় পতাকার সম্মান প্রদর্শন কার্যক্রম। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগজ্ঞ ইউনিয়নের সুলতানগজ্ঞ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালী আচরনে বিদ্যায়টি এমন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। এমন অভিযোগ ক্ষুব্ধ অবিভাবকসহ স্থানীয় মানুষের।
অবিভাবকদের নিয়মিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেলা বারোটা ২৫মিনিটে (১৭.০১.২০১৮) সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে যায় সকল শ্রেণীসহ অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ।

এ ঘটনার প্রমান মিলাতে গিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮.০১.২০১৮) সাড়ে বারোটায় গিয়েও দেখা মেলে একই চিত্রের। চারিদিকে সুনশান, নেই শিক্ষার্থী কোলাহল। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের কাছের স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আ. ছালামের কাছে জানতে চাইলেও তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তিনটার পর কখনোই স্কুলে ক্লাস হয়না। একই কথা জানান স্থানীয় শাহাবুদ্দিন হাওলাদার। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মিলন জানান, একজন শিক্ষককেে নিয়মিত সময়মত বিদ্যালয়ে আসেন। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা ইচ্ছামাফিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন। একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা সবুজের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অবিভাবক জানান, শরীরচর্চা, জাতীয় পতাকার সম্মান প্রদর্শন এসব হতে দেখিনা। সাংবাদকর্মীদেও এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব অবিভাবকরা বলেন, যেখানে শিক্ষকরা তাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব পালন করেনা সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের কি নৈতিক শিক্ষা দিবেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনায়েত কবির মন্টু বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনি শংকর বলেন, বিষয়টি তিনি জানলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।