কমলগঞ্জ পৌরবাসীর সেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে চান পৌর মেয়র জুয়েল
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও আর্দশ পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। সেই সাথে আমি শাসক নয় পৌরবাসীর সেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে চাই। পৌরসভার উন্নয়নে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেন ,স্যানিটেশন , সড়কবাতি সহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে। আর এসব কাজ স্বচ্ছতার সাথেই পরিচালিত হচ্ছে। জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ৭ অক্টোবর ৯.৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২৪ টি গ্রাম ৯ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে কমলগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। গঠন কালীন সময়ে পৌর প্রশাসক ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম খান। পরে নির্বাচনে মুহিবুর রহমান চাষী মেয়র নির্বাচিত হন। তার অকাল মূত্যুতে উপ নির্বাচনে হাছিন আফরোজ চৌধুরী এবং পরবর্তী নির্বাচনে আবু ইব্রাহিম জমসেদ মেয়র পদে আসীন হন। এরা সকলেই বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কমলগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্টা করেন আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত ৫ বারের সাংসদ সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি। আওয়ামীলীগ সরকার পৌরসভাটি প্রতিষ্টা করলেও মেয়র পদটি তাদের দখলে নিতে পারেননি দীর্ঘ ১৬ বছর। অবশেষে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই যুবলীগের এক তরুন জনপ্রিয় নেতাকে এই মেয়র পদের জন্য আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দেন। ঝুঁকিই আওয়ামীলীগকে পৌরসভার মেয়র পদটি তাদের দখলে নিতে সক্ষম হন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্টিত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে মোঃ জুয়েল আহমেদ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়। কমলগঞ্জ পৌরসভায় ১ম বারের মতো আওয়ামীলীগ মেয়র পদটি লাভ করে। পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারী রাজস্ব খাতে ৩৭ হাজার ৮৫ টাকা নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মেয়রের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আর পৌর নাগরিকদের সচেতনতায় ১০ জুলাই ২০১৭ সালে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৭ টাকা রাজস্ব আয় করেন। উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারের বিধি বিধান সম্পন্ন করার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২ গত ৫ অক্টোবর ২০১৭ সালে কমলগঞ্জ পৌরসভার শ্রেণী পরিবর্তন করে “গ” শ্রেণীর পৌরসভা থেকে “খ” শ্রেণীতে উন্নীত করেন। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ জুয়েল আহমেদর দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ক্রীড়া সম্পাদক, পৌর যুবলীগের সভাপতি, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। রাজপথে সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে মুজিব আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে পরবর্তীতে কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছি। রাজনীতি করার কারণে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এক ডজন ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়েছি। এছাড়া অনেকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সবদিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রদান করেন। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। দীর্ঘ ১৬ বছরের পৌর এলাকার যে সকল সমস্যা ছিল তা চিহ্নিত করে অতিতের জনপ্রতিনিধিরা তা সমাধান করেননি। আমি মেয়র পদে আসীন হওয়ার পর আমার পরিষদকে নিয়ে জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ক্রমান্বয়ে নাগরিক সুবিধা সুনিশ্চিত করনে সর্বাধিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের উন্ন্য়ন বঞ্চিত পৌরবাসী কমলগঞ্জ পৌরসভার গঠনের ১৬ বছর পর আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী পৌর মেয়র নির্বাচিত করেন। পৌরবাসী অনেক আশা আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে পৌর মেয়র নির্বাচিত করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পৌরসভার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। পৌরসভা গঠনের ১৬ বছর পর আমি পৌরসভাকে “গ” শ্রেণী থেকে “খ” শ্রেণীতে উন্নীত করেছি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদ বলেন, পৌরবাসীর কাছে আমার প্রতিশ্রæতি খুবই কম ছিল। দূর্ণীতি মুক্ত করে আলোকিত ও আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করন,পরিস্কার-পরিছন্ন পৌরসভা উপহার দেয়া এবং পৌরবাসীর জীবনমানের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম। আমার ২ বছরের ক্ষমতা গ্রহনের মধ্যে ইতিমধ্যেই এসব প্রতিশ্রুতির প্রায় ৮০ ভাগ পুরণ করতে সক্ষম হয়েছি। পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছি। পৌরসভায় প্রায় ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে যা অতিতের কোন মেয়ররা করতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যা ছিল এই পৌরসভার প্রধান সমস্যা। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ঘাটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে নাগরিকদের দৃর্ভোগে পেলে দিত। অনেক রাস্তাই মানুষজনের চলাচলের অনুপযোগি ছিল। সে সব স্থানে রাস্তা তৈরী করে মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরনো রাস্তা সমুহ নতুন করে সংস্কার করে দিয়েছি। নতুন আরো রাস্তা তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পৌর এলাকায় প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই পানি নিষ্কাকষনের জন্য ড্রেন তৈরী করা হয়েছে। এখন আর আগের মতো নাগরিকদের জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। রাস্তা এবং ড্রেনেজ সমস্যার প্রায় ৭৫ ভাগই সমাধান করা হয়েছে। নাগরিকরা দৃর্ভোগ পোহানো থেকে রেহাই পেয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ধলাই নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের এক-তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছে। অচিরেই ব্রীজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। পৌরসভাকে আলোকিত করার জন্য পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক সমুহে লাইট পোষ্ট স্থাপন সহ বিদ্যূৎ সংযোগ দেয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দিলেই লাইট জ্বালানো হবে। এছাড়া পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে বলেন, পানি শোধনাগার ও উচ্চ জলাধার স্থাপনের প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে,বরাদ্ধ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া পৌর নাগরিকদের সুবিধার্থে আমার নিজ বাসভবনের সামনে একটি পৌর মেয়রের ব্যক্তিগত কার্যালয় স্থাপন করেছি। যেখানে অফিস সময় বাদে সব সময় সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করে থাকি। অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদ আরো বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের জঞ্জাল এই অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৌরসভা থেকে দূর্ণীতির শেকড় উপড়ে ফেলেছি। স্বজনপ্রীতির কোন সুযোগ নেই। আমি পৌরসভার দায়িত্ব নেয়ার সময় আগের মেয়রদের রেখে যাওয়া ১৮ টি অডিট আপত্তি ছিল। আমি দায়িত্বনেয়ার পর ১৫টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করেছি। পৌর মিলনায়তনে পৌর কাউন্সিলদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। এই সব আলোচনা সভায় আমি সবাইকে বলে দিয়েছি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলেই যেন আন্তরিক ভাবে কাজ করেন। কোন ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। মোঃ জুয়েল আহমেদ আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা সফল রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় অনেক শক্তিশালী হয়েছে। সে কারনেই কমলগঞ্জ পৌরসভাকে প্রায় ১৬ বছর পর শ্রেণী উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। কমলগঞ্জ পৌরবাসী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ উপাধ্যক্ষ আলহাজ¦ আব্দুস শহীদ এমপি এবং আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাদের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের সুফল আমার দ্বায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকেই দেয়ার চেষ্টা করে চলেছি যা এখন ও অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষতে ও তা অক্ষুন্ন রাখবো। শীঘ্রই কমলগঞ্জ পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করার প্রত্যাশা করছি। পৌর মেয়র মো: জুয়েল আহমদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করছি। সকল মানুষেরই ইচ্ছা থাকে। আমার স্বপ্ন একটাই- কমলগঞ্জ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা। এজন্য পৌর নাগরিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।