April 9, 2026, 10:51 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মহিপুরে ১১ ফেয়ারপ্রাইস কার্ডধারীর ১৭ মাসের চাল আত্মসাৎ

আনু আনোয়ার,পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

mostbet

করোনা ভাইরাসের মহামারীতে দেশের মানুষ যখন মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন ঠিক তখনই পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবু সালেহ’র বিরুদ্ধে ১১ অসহায় পরিবারের ফেয়ার প্রাইস কার্ডের চাল দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে। জানা যায়, মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবু সালেহ চৌকিদার দীর্ঘ মাস ধরে ১১ অসহায়ের চাল পৃথক ভাবে কার্ডের উপরে অন্য ব্যাক্তিদের ছবি বসিয়ে আত্মসাৎ করে আসছেন। ঐ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মেজবা খান ডিলারের কাছ থেকে চৌকিদারের প্রদত্ত কার্ড উদ্ধার করে। সেখানে দেখা যায় ১১ টি কার্ডে কারো কারো কার্ড থেকে ১০ মাস, কারো থেকে ১৭ মাস ধরে গ্রাম চৌকিদার নিজে এবং পরিবারের লোকজন দিয়ে চাল উত্তোলন করে আসছে। একটি কার্ডের নামে মোঃ হান্নান সরদার স্থলে ছবিতে চৌকিদারের বাবার ছবি লাগানো। চৌকিদার নিজেই কার্ডে স্বাক্ষর দিয়ে চাল উত্তলন করেছেন। ১১ টি ফেয়ার প্রাইস কার্ডের তালিকায় দেখা গেছে ভিখারি, স্বামী পরিত্যাক্তা, প্রতিবন্ধী এবং জেলেদের নাম থাকলেও তারা কেউই ১০টাকা কেজির চাল পাচ্ছেন না। চৌকিদার এসব কার্ডের চাল নিজে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
ফেয়ার প্রাইস কার্ডধারী স্বামী পরিত্যাক্তা সালেহা বেগম জানান, প্রথম পর্যায়ে তিনি ৩ বার ফেয়ার কার্ডের চাল উত্তোলন করেছেন। পরবর্তীতে চৌকিদার তার কাছ থেকে কার্ড অফিসে প্রয়োজন বলে নিয়ে যায়। তার কার্ড আর দেয়নি চৌকিদার। কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌকিদার কার্ড আসলে ফেরত দেওয়া বলে জানান। পরবর্তীতে ইউপি সদস্যের কাছে বলার পরে তিনি কার্ড উদ্ধার করে দেখেন ১৭ বার উত্তলন করা হয়েছে ঐ কার্ড দিয়ে। ভুক্তভোগী জেলে আমির হোসেন জানান তার কার্ড থেকে তিনি ১ বার চাল উত্তলন করার পরে চৌকিদার একই কথা বলে কার্ড নিয়ে পার্শবর্তী খবিরের কাছে বিক্রি করে দেয়। খবির জানান তাকে কার্ড দেওয়ার জন্য চৌকিদার ৫শত টাকা নেয়। সেই কার্ডের উপরে তার ছবি বসিয়ে দেয়। ১বার চাল উত্তোলন করার পর চৌকিদার কার্ড নিয়ে যায়। বিধবা নুরভানু জানান একই কথা বলে চৌকিদার তার কার্ডও নিয়ে যায়। ফেয়ার প্রাইস কার্ডধারী অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে চৌকিদারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের কথা জানান। ইউপি সদস্য মিজবা খান জানান আমার কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আমি চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করি এবং চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে ডিলারের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে আসতে বললে আমি কার্ড এনে এমন অবস্থা। চালের ডিলার মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, আমি কার্ড পেয়ে চাল দেই। এগুলো আমার দেখার দায়িত্ব নয়, কার্ড দেখে ছবি সনাক্ত করবেন চেয়ারম্যান মেম্বাররা। চাল বিতরনের তদারকি কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র রায় বলেন, আমার কাছে কখনো কোন অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সিকদার সাংবাদিকদের কাছে চাল আত্মসাতের কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত চৌকিদার এমনিতেই বেপরোয়া এবং একজন মাদক সেবী। আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে অভিযুক্ত আবু সালেহ এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
এ ব্যাপারে কলাপারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা সত্য বলে মনে হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত চৌকিদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এর পরে আমরা অভিযুক্তের ব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৩ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর