রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরানতাহীর গ্রামের গাড়িচলা রাস্তা থেকে নামলেই সমনে ফসলের ক্ষেত, এরপর কিছুটা দূরেই আদিবাসী পল্লী। গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। তবে সেই ফসলের ক্ষেতের আইল ধরে সেই পল্লীতেই সহকর্মীদের সাথে কাঁধে করে ত্রাণ নিয়ে গেলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহসীন মৃধা।মঙ্গলবার (২১শে এপ্রিল) ২০২০ ইং দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা এই সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ওই আদিবাসী পল্লীতে যান।দূর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পুরানতাহীর গ্রামে টং ঘর করে ১৩টি পরিবার বসবাস করছেন। এখানে তারা দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে সংসার চালিয়ে আসছেন। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে গত কয়েক দিন থেকে তাদের দিনমজুরের কাজও বন্ধ। কাজ বন্ধ হওয়ায় এবং বাইরে বের হতে না পারায় খাদ্য সংকটে পড়েন আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদিবাসী ওই ১৩টি পরিবারে ত্রাণ পৌছে দেওয়া হয়েছে। সেই সময় দূর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নিজেও তার কাঁধে একটি ত্রাণের বস্তা নেন। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধাও নিজ হাতে ত্রাণ বয়ে নিয়ে যান।এ ব্যাপারে দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহসীন মৃধা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ভাসমানভাবে বসবাস করে আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা। তারা এখানে স্থায়ী না হওয়ায় এবং নিজ এলাকায় না থাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত ছিলো। সাম্প্রতিক করোনার পাদুর্ভাবের সময়ে তারা কিছুটা খাদ্য সংকটে পড়ে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মানবিকতার জায়গা থেকে আমরা তাদের কাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। তিনি এও বলেন, মহামারী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি আমাদের এই ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২১ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল