April 15, 2026, 5:45 am

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

মৌলভীবাজারের ২ রাজাকারের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড

মৌলভীবাজারের ২ রাজাকারের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

একাত্তরে মৌলভীবাজারের দক্ষিণখোলা গ্রামে গণহত্যার দায়ে তখনকার রাজাকার বাহিনীর দুইজনকে মৃত্যুদ- এবং আরও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে মো. নেছার আলী ও উজের আহমেদের সর্বোচ্চ সাজার রায় দিয়েছে আদালত। আর সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, ইউনুছ আহমেদ, মোবারক মিয়াকে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদ-। এই পাঁচ আসামির মধ্যে ইউনুছ ও উজের রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদ-ের দুই আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে। সেই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিদের সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এ মামলার পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৩০টি মামলার ৬৭ আসামির মধ্যে তিনজন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৬৪ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে। এদিকে, পাঁচ আসামির এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে পঞ্চমটিতে ছিল গণহত্যার অভিযোগ। একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণখোলা গ্রামে হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন হিন্দু বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে পাকিস্তানি বাহিনী আর রাজাকাররা। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সেসব বাড়ির বাসিন্দাদের। ভাঙচুর চালানো হয় হিন্দুদের মন্দিরে। ওই গ্রামের অন্তত ১৪ জন হিন্দুকে নির্যাতন করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে বা গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বজনরা পরদিন তাদের লাশ পাওয়ার পর ভয়ে কোনো ধর্মীয় আচার ছাড়াই মাটিচাপা দেয়। সেই কবরে এখন শহীদদের জন্য একটি নামফলক বসানো রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই বর্বরতার দায়েই দুই আসামির মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। বাকি তিন আসামির হয়েছে আমৃত্যু সাজা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার আদালত বসার পর মৌলভীবাজারের পাঁচ আসামির রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রেফতার দুই আসামিকে তার আগেই কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম প্রারম্ভিক বক্তব্যে জানান, এ মামলায় তারা যে রায় দিচ্ছেন, তা ২০২ পৃষ্ঠার। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার রায়ের সার সংক্ষেপের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন। বিচারপতি আমির হোসেন পড়েন রায়ের দ্বিতীয় অংশ। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন। রায়ের পর আসামি ইউনুছ আহমেদ ও উজের আহমেদ চৌধুরীকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালের ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেখানে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সামছুল হোসেন তরফদার একাত্তরে আলবদর বাহিনীর এবং নেছার আলী রাজাকার বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন। বাকি তিনজন রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হন। প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওইদিন বিকালেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের উজের আহমেদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও ইউনুছ আহমদকে তার সোনাটিকি গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই বছর ৮ ডিসেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করে। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল; আর ইউনুছের পক্ষে আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও ওজায়েরের পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। এরপর গত মঙ্গলবার জানানো হয়, গতকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে এ মামলার রায়।

মৌলভীবাজারবাসীর উচ্ছ্বাস: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে ২ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ৩ জনের আমৃত্যু কারাদ-ের রায় ঘোষণায় আনন্দিত মৌলভীবাজারবাসী। এদের মধ্যে নেসার আলী ও ওজায়ের আহমেদের ফাঁসি এবং শামছুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া ও ইউনুস আহমেদকে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সরেজমিন রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী ও একই উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের মৌলভী ইউনুছ আহমদের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে। গোয়াসপুর গ্রামের বাসিন্দা রহমত মিয়া বলেন, যারা মুক্তিবাহিনীকে মেরেছে তাদের ফাঁসির রায় হয়েছে এটা আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশের প্রত্যেক রাজাকারের এভাবে বিচার হওয়া উচিৎ। এদিকে এ রায় নিয়ে শহরের পাড়া মহল্লা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল আন্দোলন কর্মীসহ জেলার সব শ্রেণিপেশার মানুষ আনন্দিত। তবে তাদের দাবি এ রায় দ্রুত কার্যকর করা। গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক জুবায়ের আহমদ বলেন, আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল হচ্ছে আজকের এ রায়। এখন আমাদের দাবি হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, বর্বরোচিত এ রাজাকারদের ফাঁসির রায়ে মৌলভীবাজারবাসী আনন্দিত। এ রায়ে মৌলভীবাজারবাসীর একটি কলঙ্ক মোচন হলো। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এ রায় হয়েছে। সেদিনের আনন্দের সঙ্গে আজকের এ রায় ঘোষণার আনন্দ মিশে গেছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর