May 26, 2024, 5:11 am

সংবাদ শিরোনাম
মাঝরাত্রে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে স্ত্রীও মা কে ছুরি মেরে পালালো দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: এমদাদুল আহবায়ক রবি সদস্য সচিব গাইবান্ধা প্রসক্লাব’র কমিটি গঠিত প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা, বাগাতি পাড়ার ভূমিহীন রাবেয়া বেগমের জৈন্তাপুরে ৫১০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারী আটক পটুয়াখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু এন এস আই পরিচয় দিয়ে এন এস আই এ চাকরির মিথ্যা প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ আটক দুই পটুয়াখালীতে প্রতিমা ভাঙচুর ও স্বর্ণের চোখ চুরি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার আদমদীঘিতে হেলমেট নেই, জ্বালানি নেই কার্যক্রম শুরু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

আলু ব্যবসায় দুর্যোগ না কাটলে নতুন মৌসুমে বন্ধ হবে অনেক হিমাগার

আলু ব্যবসায় দুর্যোগ না কাটলে নতুন মৌসুমে বন্ধ হবে অনেক হিমাগার

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

দেশের হিমাগারগুলোতে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত ৫৩ লাখ মেট্রিক টন আলুর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৭ লাখ মেট্রিক টন কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও বাকি আলুর মধ্যে বীজ আলু ও কিছু খাবার আলু বাদ দিয়ে ১৯ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আলুর দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় এ বছর কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ প্রতি কেজি আলুর পেছনে কৃষকের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৪ টাকা। এখন হিমাগার পর্যায়ে কেজিপ্রতি সেই আলুর দাম পড়ছে ৩-৪ টাকা। কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায়। অথচ বছরের শুরুতে হিমাগার মালিকরা ওই আলু কিনেছেন প্রতি বস্তা হাজার টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও হিমাগার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আলু সংরক্ষণ করতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ হিমাগার মালিকরা কয়েকশ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাদের এখন ওই ঋণ পরিশোধের কোনো উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে হিমাগার মালিকরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। তাছাড়া হিমাগারের পরিচালন ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক ব্যয়সহ অন্যান্য খরচও বেড়ে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে সময় চাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে হিমাগারে আলু তুলতে আবারো ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল চাইছে ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ীরা। ওই বৈঠকে পুরনো ঋণ পরিশোধে রি-শিডিউল সুবিধা চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া উচ্চ পর্যায়ের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে যে হিমাগারগুলোর ঋণ দরকার, সেই হিমাগারগুলোকে নতুন করে মূলধনী পুঁজি দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

সূত্র জানায়, চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন। আর দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে ২০ লাখ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুন আলু বাজারে এসে গেছে। ফলে পুরনো আলু হিমাগার থেকে বের করার চাপ বেড়েছে। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে বাজারে শাক-সবজির উচ্চমূল্য বিরাজ করলেও চাহিদা না থাকায় ও মূল্য অস্বাভাবিক কম থাকায় আলু বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এ বছর আলু ব্যবসায় যে দুর্যোগ নেমেছে, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ না দিলে নতুন মৌসুমে হিমাগার বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আবার সারা বছর আলু বাজারজাতকরণে নতুন সংকট তৈরি হবে। হয়তো চাইলেও বাজারে মিলবে না দরকারি এই সবজিটি।

এ প্রসঙ্গে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, আলুর দাম কমে যাওয়ায় এবার কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার পর্যায়ে যে ক্ষতি হয়েছে তার রেশ টানতে হবে আগামী কয়েক বছর। এমনও হতে পারে, হিমাগার মালিকরা সামনের বছর আর আলু রাখতে উৎসাহিত হবেন না। কারণ এরই মধ্যে তাদের যে ব্যাংক ঋণ তা সুদে আসলে বেড়ে গেছে। এ টাকা পরিশোধ না করে নতুন করে কীভাবে তারা আলু হিমাগারে রাখবেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর