
টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই কলেজছাত্রীকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার ঘটনায় পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অন্তর (২৫) সহ ৫ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার অন্যরা হলেন, পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের লিয়াকত আলীর ছেলে সাকিব আল হাসান (২৩), ৪নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলামের ছেলে সিয়াম হোসেন (২৪), ১নং ওয়ার্ডের সোহেলের ছেলে কাব্য (২২) ও উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান আগুন (২৬)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত রিমান্ড শুনানীর জন্য শুক্রবার দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এসএম মজিবুর রহমন।
তার আগে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে পরিবর্তন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলম।
ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় ওই কলেজের অধ্যক্ষ রেনুবর রহমান বুধবার রাতে মামলা দায়ের করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়ীতদের শাস্তির দাবিতে ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিাবার সকাল সাড়ে ১১টায় লাঠি মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ওই কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ থেকে বের হয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একপর্যায়ে মিছিলটি সখীপুর থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে ওসি মাকছুদুল আলম গ্রেফতারদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে তারা মোখতার ফোয়ারা চত্বরে সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেন।
.jpg?1513857660011)
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কলেজের অধ্যক্ষ রেনুবর রহমান, বাংলা বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ আবদুল আলীম, অধ্যাপক রফিক-ই রাসেল, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলায় ঢাকা-সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের দুইপাশে কয়েকশ’ যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, বুধবার সন্ধ্যায় সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রী নিবাস থেকে অটোভ্যানযোগে সখীপুরে বাজারে যাচ্ছিলেন হিসাববিজ্ঞান স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তাসলিমা সুলতানা স্বর্ণা ও বাংলা বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষের সুষ্মিতা।
এসময় তারা রফিকরাজু ক্যাডেট স্কুলের সামনে পৌঁছালে মুখোশপড়া তিন বখাটে তাদের গতিরোধ করে। পরে ভ্যান থেকে তাদের জোরপূর্বক নামিয়ে রড দিয়ে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে ওই দুই ছাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও বখাটেরা তাদের লাথি মারে এবং পেটাতে থাকে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় ফাহাদ ট্রেডার্সের মালিক আলী হোসেন তালুকদার এগিয়ে গেলে বখাটেরা তাকেও মারপিট করে। এক পর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।
ওই কলেজের অধ্যক্ষ রেনুবর রহমান বলেন, বাড়ি ফেরার পথে আমাদের কলেজের দুই ছাত্রীকে ৫ বখাটে যুবক রাস্তায় পেটায়। পরে আমি বিষয়টি জানার পর সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করি। এ ঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
সখীপুর থানার ওসি মাকছুদুল আলম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ রাতে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতরা করেছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।