April 7, 2026, 7:42 am

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৬৬০ স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার শঙ্কা

চিকিৎসক ২৯৫, নার্সসহ কর্মী ৩৬৫ * পরিস্থিতি উত্তরণে বিএমএ’র তিন প্রস্তাব * লক্ষণহীন রোগীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

মোহাম্মদ ইকবাল হাসান সরকারঃ

mostbet

দেশে এখন পর্যন্ত ৬৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে।এর মধ্যে ২৯৫ জন চিকিৎসক, ১১৬ জন নার্স ও ২৪৯ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী।এই তথ্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ)।সংশ্লিষ্টরা বলছেন,মানসম্পন্ন সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, লক্ষণবিহীন রোগীদের সেবা প্রদান, আবাসন ও খাদ্যের সুব্যবস্থার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের হার বেশি।এদিকে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস্ সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস্ (এফডিএসআর) জানায়, সারা দেশে ৩৮৭ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে।এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৭ জন চিকিৎসক।সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরান প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, ঢাকায় ৩১৭ জন, বরিশালে ৯ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন, সিলেটে পাঁচজন, খুলনায় ১০ জন, রংপুরে তিনজন, ময়মনসিংহে ২৮ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।উভয় সংগঠনের শঙ্কা স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চিকিৎসাসেবা সঙ্কটে পড়ার শঙ্কা আছে।বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে বাংলাদেশ ও গভীর সংকটের সম্মুখীন।করোনা যুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সেবাদানকারীরা আশঙ্কাজনকভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।এহারে আক্রান্ত হতে থাকলে আগামীতে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএমএ সরকারের প্রতি তিনটি প্রস্তাবনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। ১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড হাসপাতালে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য সঠিক মানের পিপিই, এন-৯৫ বা এর সমমানের মাস্ক প্রদান । ২. নন কোভিড হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে ট্রায়াজ সিস্টেম চালু করে সেখানে কর্মরত সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত পিপিই, এন-৯৫ বা সমমানের মাস্ক প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ৩. সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ, হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্সরে বিভাগের দু’জন টেকনোলজিস্টসহ মোট ৫ জন করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন।এতে এক্সরে বিভাগের কার্যক্রম বন্ধের পথে। আক্রান্ত একজন টেকনোলজিস্ট জানিয়েছেন করোনা আক্রান্ত কিন্তু কোনো লক্ষণ নেই এমন রোগীদের সেবা দিতে গিয়েই তারা আক্রান্ত হয়েছেন।এতে ওই বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, একজন ওয়ার্ড মাস্টার এবং পরিচালকের দফতরে কর্মরত একজন অফিস সহকারী ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এছাড়া আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টিনে আছেন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি হৃদরোগ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত সাতজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।যাদের মধ্যে দু’জন কেবিনে ছিলেন এবং বাকিরা ওয়ার্ডে ও করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিয়েছেন।এসব রোগীর মধ্যেও করোনার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি।কিন্তু তিনজন রোগীর শরীরে গুরুত্বপূর্ণ শল্য চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে করোনা পরীক্ষা করে পজেটিভ পাওয়া যায়।এরপর কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।গত ২৭ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ সোমবার শেরপুর জেলার সদর হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও তিন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।আক্রান্ত তিন স্বাস্থ্যকর্মীই করোনার নমুনা সংগ্রহ দলে কাজ করতেন।নতুন শনাক্ত হওয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মীর একজন জেলা সদর হাসপাতালের এবং দু’জন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান।আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জেলা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান।বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব সেলিম মোল্লা প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, এ পর্যন্ত ২৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।লক্ষণহীন রোগী এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।তিনি বলেন, এভাবে টেকনোলজিস্ট আক্রান্ত হতে থাকলে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে তেমনি হাসপাতালগুলোর ল্যাবরেটরি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি আরও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার দাবি জানান।প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৯৭ জন।এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯১৩। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৯ জন।দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা ও নাটোর ছাড়া বাকি ৬০ জেলায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৮ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর