April 13, 2026, 4:24 am

mostbet
সংবাদ শিরোনাম
রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষা কর্মকর্তাতাদের সেচ্ছাচারিতায় মুখথুবড়ে পরেছে প্রাথমিক শিক্ষা-ব্যবস্থা

রংপুর ব্যুরো,শাহ মো: রায়হান বারী ঃ
 
রংপুর পীরগঞ্জে  প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জোতবাজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিত  থাকলেও নিয়মিত বেতন নেন তারা। দীর্ঘ নয় বছর ধরে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার  অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। ফলে  সরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েই।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জোতবাজ গ্রামের জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ধাপে সরকারীকরণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র বর্মণ ও গোলাম কিবরিয়া, আঞ্জুমান আরা রানু, উম্মে হাবিবা ইসমোত আরা নাজমিন ও শিরিনা পারভীনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তখন পড়ালেখার ভালো পরিবেশ ছিল এ স্কুলে সম্প্রতি সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনিয়ম ও গড় হাজিরা নিয়ে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের আগে এখানে পড়ালেখার ভালো পরিবেশ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে শিক্ষার মান এমন হয়েছে যেকোনো বাবা-মা আর তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চান না। এলাকার একাধিক অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকার ক্লাস হয় না শিক্ষকরা তাদের নিজের ইচ্ছামতো আসেন আবার চলে যান। ক্লাস নেওয়ার ইচ্ছা হলে ক্লাস নেন না হলে নেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, প্রধান শিক্ষক বাবুও নিয়মিত আসেন না আবার রানু নামের এক আপা ১২টায় এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। তিনি আরো বলেন, রানুর বাবা এই প্রতিষ্ঠান গড়তে জমি দান করছেন বিধায় তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো প্রতিষ্ঠানে আসেন। তিনি স্কুলের নিয়ম-নীতির ধার ধারে না।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না, ক্লাসে পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। শিক্ষকরা আমাদের ক্লাস করান না এবং আমরা স্কুলে আসি মাঠে খেলি আর দুই-একটা ক্লাস করে ছুটি দিলে বাড়ি যাই। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান গোপাল চন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তর্থ নয় বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত উম্মে হাবিবা ইসমোত আরা নাজমিন নামে সহকারী শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষকের যথাসময়ে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে আমার বাসা অনেক দূরে এছাড়া অফিশিয়াল কাজে আমাকে শিক্ষা অফিসে যেতে হয় তাই যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না। তবে তিনি প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানে আসেন বলে দাবি করেন।
স্কুলের সভাপতি শামীম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসামত আরা নামে শিক্ষিকাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার জন্য আমরা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। তিনি বর্তমানে বালুয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের পদটি ছেড়ে না দেওয়ার কারণে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যদি তিনি এখানে পদটি ছেড়ে দেন তাহলে নতুন শিক্ষক পাওয়া যাবে। আমাদের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে শিরিনা খাতুন নামে এক বছরের পিটিআই প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে আছেন। রানু নামে শিক্ষিকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
উপসহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাহের মো. সাইফুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই! তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল ধরেননি। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য গণশিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৫ মার্চ ২০২০/ইকবাল
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর