February 22, 2024, 3:42 pm

সংবাদ শিরোনাম
ভোলায় ভাষা শহিদের প্রতি পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পীরগঞ্জ উপজেলার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ৪দিন ব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন মাতৃভাষা শহীদের স্মরনে লক্ষ্মীপুরবাসী জগন্নাথপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন চিলমারীতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ায়, মোবাইল দিয়ে কর্মচারীর মাথা ফাটালেন উখিয়ায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ, পটুয়াখালীতে মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি রংপুরে মোটর মালিক সমিতির নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, আটক ৩ শিমুলতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা

শিলং তীরের পর ‘দেশীয় নাইট তীরে’ নতুন করে বিদ্ধ হচ্ছে সিলেট

রোজগারের সব টাকাই জুয়ার বোর্ডে দু’হাতে ঢালছেন নিম্ন আয়ের লোকজন

শিলং তীরের পর ‘দেশীয় নাইট তীরে’ নতুন করে বিদ্ধ হচ্ছে সিলেট

সিলেট প্রতিনিধি

ভারতের শিলং তীরের পর ‘‘দেশীয় নাইট তীরে’’ নতুন করে বিদ্ধ হচ্ছে সিলেট। নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নি¤œ আয়ের মানুষ। রাতারাতি অবৈধ পন্থায় ভাগ্যের পরিবর্তন করে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া ও অলি গলিতে থাকা জুয়ার এজেন্টদের মাধ্যমে  লাখপতি -কোটিপতি আর বাড়ি-গাড়ীর মালিক বনে যাবার আশায় ফাঁদে পড়ে নি¤œ আয়ের লোকজন দিনের রোজগারের সব টাকাই দিনে ‘‘শিলং তীর’’ আর রাতে ‘‘দেশীয় নাইট তীর’’ নামের জুয়ার বোর্ডে  দু’হাতে ঢালছেন।’  এ সর্বনাশা খেলায় হাতে গোনা কয়েকজনের মুখে হঠাৎ হানিসর ছিলিক ফুটলেও  অধিকাংশ মুখই থাকছে মলিন।’ মাঝখানে প্রতিদিন খেটে খাওয়া মানুষদের কাছ থেকে কোটি টাকা লুপাট হচ্ছে সিলেটে।


সরজমিনে ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় থেকে নেটে পরিচালিত খেলা দুটির একটির নাম হল,  ‘শিলং তীর’আর অপরটির নাম দেয়া হয়েছে ‘‘ইন্ডিয়া তীর শিলং নাইট’’। শুধু মহানগরী সিলেট নয় গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এ খেলাগুলো। ইন্টারনেট নির্ভর এই খেলা ইতিমধ্যে সিলেটে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।  কেবল শিলং তীর আর ইন্ডিয়া তীরই নয়, এবার দেশীয় নাইট তীরেও নতুন করে বিদ্ধ হচ্ছে সিলেট।’  যারা এ শিলং তীর আর ইন্ডিয়া তীর খেলছেন তারাই আবার দেশীয় নাইট তীর খেলায় অংশ নিয়ে দ্বিগুণহারে ক্ষতির মুখোমুখী হচ্ছেন।’
তীর খেলা নিয়ে সিলেটে পুলিশ প্রশাসনের ঘুম প্রায় হারাম। গেল দু ’মাসে সিলেট মহানগর পুলিশ তীর খেলার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় দু’ শতাধিক জুয়াড়িকে। সাম্প্রতিক সময়ে ফের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরো ২০ জন। কিন্তু কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না শিলং, ইন্ডিয়া তীর কিংবা দেশি নাইট তীর সিন্ডিকেটধারীদের। সিলেটের পাশেই ভারতের খাঁসিয়া-গারো অধ্যুষিত মেঘালয় রাজ্য।’ এ রাজ্যের রাজধানী হচ্ছে শিলং। অনেক আগে থেকে শিলং তীর নামে একটি জুয়া খেলা মেঘালয়ে প্রচলিত রয়েছে। মেঘালয় রাজ্যে এ খেলাটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ইন্ডিয়া তীর শিলং নাইটও যোগ হয় মেঘালয় রাজ্যে। বাংলাদেশে এ খেলাটি অবৈধ লটারী বা জুয়া খেলা হিসেবেই দেখা হতো।’


বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের বদৌলতে খেলাগুলো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চলে আসে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায়।’ এ দু’উপজেলা গড়িয়ে পরে সেটি সিলেট নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন সিলেটে নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে শিলং তীর ও ইন্ডিয়া তীর শিলং নাইট।’ প্রতি পাড়ায় পাড়ায় নিয়ন্ত্রকরা এসব খেলা পরিচালনা করছেন। সিলেটের যেকোনো এলাকায় বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা এ জুয়ায় বাজি ধরছেন। এ  খেলাটি সপ্তাহের ছয়দিনই দিনের দু’সময়ে বসছে। প্রতিদিন দু’বার করে শিলং তীর ও ইন্ডিয়া তীর এর ড্র অনুষ্ঠিত হয়।’
জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের শিংল’র এ খেলার এজেন্টদের সাথে সিলেটে এজেন্টেরা জুয়াড় আসর গুলোর সমন্বয় করে থাকে। আর ভারতীয় এ ভাগ্যের খেলায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর, হোটেল রেস্তোরার শ্রমিক, নরসুন্দর, হোটেল বয়, রিকশাচালক, যানবাহনের চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা অংশ নিচ্ছেন।’ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে গেছে এ তীর খেলার নামে।
ইন্টারনেট ঘেঁটে আরো জানা গেছে, এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ০-৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় যেকোনো মূল্যে। লটারিতে ০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত যেকোনো সংখ্যা কিনে নেয়া যায়। সর্ব নিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা যায়। যত মূল্যে সংখ্যাটি বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে। অর্থাৎ ১০ টাকায় ৭০০ টাকা, কোথায়ও৮০০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ বা ৮০ গুণ  বেশি টাকা পাবেন। প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় শিলং তীর এর ড্র হয় আর ইন্ডিয়া তীর শিলং নাইট রাত ৮ টায় ও ১০টায় ড্র হয়।’  খেলার ফলাফল দেয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরগুলো পরিচালনা করা হয়। শিলং তীর ও ইন্ডিয়া তীর ইতিমধ্যে কাবু করে ফেলেছে গোটা সিলেট।
অপরদিকে দেশীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নাইট তীর নামেও খেলা শুরু হয় হয়েছে সিলেটে। আলাদা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশীয় তীর সিন্ডিকেটরা এ খেলা পরিচালনা করে নাইট তীর ডটকম নামে।’ ভেতরে জালিয়াতির মাধ্যমে শিলং নাইট উল্লেখ রয়েছে। রাত সাড়ে ১০টা ও রাত সাড়ে ১১টায় এই তীর খেলার ফলাফল ওয়েবসাইটে দেয়া হয়।’ সুত্র মতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের প্রতিটি শহর রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।’ তাহলে রাত সাড়ে ১০টা বা সাড়ে ১১টায় কীভাবে এ খেলার ড্র হয় এমন প্রশ্ন অনেকের।  তীর শিলং, ইন্ডিয়ার তীরের মতো নাইট তীর সিলেটে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে দেশের কোথা থেকে নাইট তীর পরিচালনা করা হয় তার কোনো হদিস মিলেনি। কিন্তু সিলেটে এর বিশাল একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটরা এজেন্টদের মাধ্যমে খেলা পরিচালনা করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত কোটি টাকা। এর মধ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ওই নাইট তীর খেলা পরিচালনা করে।
অভিযোগ রয়েছে সিলেট নগরীর তালতলা, তেলিহাওর ,শেখঘাট, সুরমা মার্কেট, মেন্দিবাগ সহ কয়েকটি এলাকায় নিজস্ব এজেন্টদের মাধ্যমে নাইট তীর পরিচালনা করা হয়। তবে এরই মধ্যে নাইট তীরের খেলা নিয়ে অংশ গ্রহণকারীদের মনে কিছুটা সন্দেহ বেধেছে। কখনও কখনও ড্র করা হয় নির্দিষ্ট সময় থেকে ১ ঘন্টা পরে। কারন নাইট তীর সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য কখনো কখনো ফলাফল পাল্টে ফেলে বলে ধারণা করছেন অংশ গ্রহণকারীরা। আর ওয়েবসাইটে ফলাফল ঘোষণার আগে কখনো কখনো এজেন্টদের মাধ্যমেও ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়। শিলং তীর, ইন্ডিয়া তীরের মতো নাইট তীরে ইতিমধ্যে গ্রাস করে ফেলেছে কাজিরবাজারের কাঁঠালহাটা, সুরমা মার্কেট, বন্দর বাজার, লাল দিঘীরপাড়, বাদামবাগিচা, শেখঘাট, বেতেরবাজার, শামিমাবাদ, নবাব রোড, বিলপাড়, ছড়ারপাড়, রিকাবীবাজার, কাজলশাহ্, বাঘবাড়ী, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, নিয়ারীপাড়া, ধানুকাঁটা,  গোয়াবাড়ী, কালীবাড়ী, নতুন বাজার, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড, তেমুখী, টুকের বাজার, বালুচর, টিলাগড়, আম্বরখানা, মেন্দিবাগ, কদমতলীসহ শহরের কয়েক’শ স্পট।’
এদিকে সিলেটে তীর খেলা বন্ধ করতে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বেশকিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েকটি বড় আস্তানা চিহ্নিত করে তারা অভিযান পরিচালনা করে শত শত মানুষকে জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। মালামাল সহ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলেও আইনের ফাঁকফোঁকর গলিয়ে তারা বেরিয়ে আসছে অনায়াসে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তাৎক্ষণিক শাস্তিও দেয়া হয়। কিন্তু তীর সিন্ডিকেটের সদস্যরা কিছুদিন কারাভোগ করে ফের বেড়িয়ে এসে খেলা শুরু করে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি বিভূতি ভূষণ ব্যানার্জি জানিয়েছেন তীরের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। সম্প্রতি মেডিকেল এলাকার শাহজাহানের আস্তানা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে দু’দিনে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তীর খেলা বন্ধ হয় না। তিনি বলেন, তীর খেলা বন্ধ করতে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে পারলে তীর খেলা দ্রত বন্ধ করা যাবে বলেও অভিমত প্রকাশ করের তিনি।

Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর