March 5, 2024, 10:39 am

সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষক হাজির ২জন শিক্ষার্থীও হাজির ২ জন উলিপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চিলমারীতে এইড-কুমিল্লার ই-কমার্স বিষয়ে সচেতনতা মূলক র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ০৪ সদস্যকে গোপালগঞ্জের সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের চরের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিলো বাফলা পটুয়াখালীতে আগুনে পুড়ে গেছে মাছের আড়তসহ ৬ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটায় পালিত বিশ্ব বন্যপ্রানী দিবস পালিত হয়েছে শার্শায় মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে কসায়সহ দুজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোলায় ২২ লক্ষ মানুষের জন্য নেই ব্লাড ব্যাংক সুন্দরগঞ্জে মাদক ব্যবসা অবাধে চলছে নেই কোন প্রতিকার

বেচেঁ থাকাই যেখানে সংগ্রাম শফিকুল সফুরা দম্পতির

দোহার  (ঢাকা) প্রতিনিধি:
জীবনের গোধূলি বেলায় যখন নাতি নাতনী নিয়ে অবসর সময় পার করার কথা বা দিন শেষে সন্তানের শুভকামনায় প্রার্থনা সময় পার করার কথা, সে বয়সে জীবন বাঁচাতে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শফিকুর ইসলাম সরকার(৬৮) ও তার দম্পতি সফুরা বেগম (৫১)।
উল্লেখ্য জাতীয় পরিচয় পত্রে শফিকুর ইসলাম সরকারের বয়স ৬৮ হলেও তিনি দাবি করেন তার বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই।  আর সফুরা বেগমের এনআইডিতে ৫১ থাকলেও বয়স তার ৬৫ হয়ে গিয়েছে।  জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরির সময় তাদের বয়স ভুলক্রমে না বুঝার কারণে কম হয়ে গেছে বলে দাবি করেন এই দম্পতি।
পেটের ক্ষুধা মেটাতে প্রায় প্রতিদিন সকালে এই দম্পতি চায়ের ফ্লাক্স হাতে বের হয় দুমুঠো খাবারের সন্ধানে। শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন সংগ্রামী জীবন পার করতে হয় তাদের। প্রতি কাপ চা ৫ টাকা বিক্রি হলেও কেও কেও ১০-২০ টাকাও দেন তাদের। তবে দিন শেষে ২-৩ শ টাকার বেশি হয় না। এই ভাবেই খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে এই দম্পতির।
গল্পটি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সুভরীয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতির। বর্তমানে এক আত্মীয়ের একটি পরিত্যাগত দোকান ঘরে মাথা গুজার ঠাই হয়েছে শফিকুল সফুরা দম্পতির।
এই দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান থাকলেও আজ তারা অসহায়। অনেক কষ্টে মেয়ের বিয়ে দিলেও ছেলে হয়েছে বিপথগামী। নেশার ছোবলে ধ্বংস হয়েছে তাদের এক মাত্র বেচেঁ থাকার সম্বল। বৃদ্ধ বাবা কে দেখভাল তো দূরে থাক উপরন্তু হটাৎ হামলা করে পিতা মাতাকে মারধর করে নেশার জন্য ঘরে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন ভাবে সন্তানকে সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ তারা। তাই নিজেদের বাঁচার পথ নিজেদেরই খুঁজতে হচ্ছে।
শফিকুর ইসলাম সরকার বলেন, আমার সহায় সম্বল বলে কিছু নেই। থাকার মতো একটি ঘর নেই। আমাদের অবস্থা দেখে আমার স্ত্রীর ভাতিজি তার পরিত্যাগত একটি দোকানে থাকার জন্য দিয়েছে। ৪-৫ বছর আমরা এখানেই আছি। এখানে থাকতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে প্রস্রাব পায়খার জন্য আমার যেতে হয় পাশের মসজিদে। রাতে আরো বেশি সমস্যা হয়।
শফিকুল আরো বলেন, আমার ভুলে যাওয়া রোগ অনেক পুরনো। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারিনা। চা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক বার এমন হয়েছে আমি রাস্তা ভুলে রাস্তায় পড়ে আছি। পথচারীরা আমাকে অটোরিকশা করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। জীবনের এই সময়ে আমি আর পেরে উঠছি না। বসে একটা কাজ করতে পারলেও হতো।  সরকার যদি আমাদের একটা ব্যাবস্থা করে দিতো তবে শেষ দিন গুলো একটু ভালো কাটাতে পারতাম।
সফুরা বেগম কান্না করতে করতে বলেন, ছেলেকে দিয়ে আমাদের আর কোনো আশা নেই। শুনেছি অনেকেই মা বাবার জন্য কিছু না করতে পেরে কান্না করে। তারা কেও একজন যদি আমাদের দায়িত্ব নিতো। আমি শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ। আমি কাজ কর্ম করতে পারি না। অনেক কষ্টে চা বানিয়ে স্বামীর সাথে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করি। প্রতিদিন ২-৩ শ টাকা বিক্রি হয়। এই দিয়ে কোনো মতে দিন পর করছি।  আমরা আর পারছি না। আইডি কার্ডে আমার বয়স কম আমার স্বামীর নামে মেম্বার বয়স্ক ভাতার জন্য আইডিকার্ড নিয়েছে। এখনও কিছু পাইনি। করোনার সময় এক কেজি চাল ও পাইনি। আমাদের জন্য একটা কিছু করেন।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার বাবার বাড়ির সম্পত্তি থেকে ১ শতাংশ জায়গা পেয়েছি। তবে ঘর করার সামর্থ নেই। ধার দেনা করে একটু একটু করে গুছানোর চেষ্টা করছি।
বাগমারা বাজারের ব্যাবসায় মো. রানা বলেন, উনি চা নিয়ে আসলে আমরা চা পান করি আর না করি কিছু টাকা বাড়তি দিয়ে থাকি। তবে তাদের বয়স ও সার্বিক দিক বিবেচনায় তাদের এখন এই কাজও জুলুম। তাদের জন্য সরকার বা বিত্তবান কেও এগিয়ে এলে ভালো হয়।
সফুরা বেগম এর ভাতিজি শাহিনা বেগম (৩৪) বলেন, আমার ফুপু-ফুপার থাকার কোনো জায়গা ছিল না। আমারও অবস্থা তেমন ভালো না। তবুও থাকার জন্য আমার একটি দোকান ঘর ছিল টা দিয়েছি। মাঝে মাঝে রান্না করে তরকারি পাঠাই। এর বেশি কিছু করতে পারি না। শুনেছি সরকার অসহায়দের ঘর বাড়ি করে দিচ্ছে তাদের জন্য কিছু একটা ব্যাবস্থা করলে অনেক ভালো হতো।
মো. মনির হোসেন (মনা) বলেন, অনেক দিন তারা এই দোকান ঘরে বসবাস করছে। দোকানের শাটার খুলতে লাগতেও তাদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা চাই তাদের জন্য একটা ভালো স্থায়ী ব্যাবস্থার সরকার করে দিক।
প্রতিবেশী ফুল মালা (৮০) বলেন, আমরা অনেক দিন যাবত তাদের কষ্ট করতে দেখছি। কেও যদি তাদের বাবা মা বানিয়ে নিয়ে যেতো। একটু থাকা খাওয়া খুব বেশি কিছু না।
বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য, মো: শাজাহান মিয়া বলেন, তারা আমার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয়। তাদের ভাতিজির বাসায় থাকার কারণে বর্তমানে আমার ওয়ার্ডে বসবাস করছে। তাই আমি বেশি কিছু করতে পারছিনা। তবুও আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেছি। চেয়ারম্যান সাহেব তাদের আইডি কার্ড নিয়ে রেখেছেন। যদি সুযোগ পাওয়া যায় যে কোনো সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে।
বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড সাফিল উদ্দিন মিয়া বলেন, বিষয়টি মানবিক আমি চেষ্টা করবো তাদের জন্য যে কোনো একটি সরকারি সুবিধা চালু করে দিতে।
Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর