February 29, 2024, 8:57 pm

সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামী ১০ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার কক্সবাজারে আগুনে ২১ দোকান পুড়ে ছাই ইসলামপুরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের মাঝে ধর্মমন্ত্রী চেক বিতরণ কুড়িগ্রামে ১৫ নারী কৃষককে দেড় লক্ষ টাকা বিতরণ রংপুরে গঙ্গাচড়ায় পাটচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান রংপুরে মৌবন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অসন্তোষজনক পরিবেশের কারণে জরিমানা আদায় র‍্যাব-৫, রাজশাহীর অভিযানে বাঘায় ০১ টি বিদেশী পিস্তল গুলি ও ম্যাকজিন উদ্ধার’ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক সংস্থার ২৪ জন মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক কক্সবাজারে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছর পেরিয়ে সিজার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ দরকার-ধর্মমন্ত্রী

পাল্টে গেছে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার দৃশ্যপট

পাল্টে গেছে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার দৃশ্যপট
দিনাজপুর প্রতিনিধি
বদলে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার চিত্র। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসক বদলে দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার দৃশ্যপট। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এখন অনেক ভালো মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বেষ্ট ফিডিং কর্ণার চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি শিশু বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবের উদ্যোগ সফলতা লাভ করায় এটি মডেল হিসেবে জেলায় এখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
চিকিৎসকগণের এই মহতি উদোগ্যেকে অভিনন্দন জানিয়ে এর সফলতা কামনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের (চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ) সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বার্তা প্রদান করেছেন।
উপজেলায় অলিগলিতে বেসরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিক হওয়ায় দালাল চক্রের কারণে নরমাল ডেলিভারি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এসব ক্লিনিক এবং হাসপাতালে সেবার পরিবর্তে শুরু হয়েছে প্রসূতি সিজারের নামে এক ধরনের ব্যবসা। আর অর্থের লোভে তাদের হয়ে কাজ করছে একটি দালাল চক্র। আবার গ্রামাঞ্চলে কিছু অদক্ষ, প্রশিক্ষণবিহীন ধাত্রী রয়েছে যারা স্থানীয় ভাবে দাই মা বলে পরিচিত। এই দাই মার কারণে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে এবং মৃত্যুও ঘটে। এমন অনেক ঘটনার নজির রয়েছে এলাকায়। ক্লিনিকে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। সিজারের নামে বাণিজ্য, দালাল চক্র এবং অদক্ষ ধাত্রীর হাত থেকে প্রসূতি মায়েদের রক্ষায় এবং নিরাপদে নরমাল ডেলিভারি করাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক টিম ওয়ার্ক শুরু করেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ। নরমাল ডেরিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে প্রসূতিদের উদ্ধুদ্ধকরণ প্রচারণায় তারা বিভিন্ন কৌশলও কাজে লাগিয়েছেন। এজন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রসূতি মহিলাদের বিনামূল্যে ‘প্রসূতি কার্ড’ দেয়া হয়। এরপর ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে কাউন্সিলিং আর ফ্রি চেক আপ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ টিম ওয়ার্কে রয়েছেন বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ, মেডিকেল অফিসার ডা. আফরোজ সুলতানা, ডা. তাহমিনা ফেরদৌস, ডা. মাধবী দাস। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে ৩৫ জনকে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। আর এ সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ২৫টি নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। হাসপাতালে এসে নরমাল ডেলিভারি করানোর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বীরগঞ্জের দামাইক্ষেত্র গ্রামের মো. আজিজার রহমানের স্ত্রী মোছা. জেসমিন আকতার (৩৩)। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
বীরগঞ্জের চাকাই গ্রামের মো. এরশাদুলের স্ত্রী মোছা. আনজু আরা (২২), শীতলাই গ্রামের মো. সুমন ইসলামের স্ত্রী রোকসানা বেগমের (২৫)। শুক্রবার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ জানান, এক সময় বীরগঞ্জ হাসপাতালে প্রসূতিরা না আসায় নরমাল ডেলিভারি করানো প্রায়ই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আমরা সবাই মিলে টিম ওয়ার্ক শুরু করি। দালাল চক্রের কিংবা দাইমা (ধাত্রী)দের বাধা উপেক্ষা করে এর সফলতা পেয়েছি। উদ্যোগ গ্রহণের পর জানুয়ারি মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫/৬টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে। পরে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে আগস্ট মাসে ৩৫ জন নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। আর এ সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ২৫টি নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর জানান, এ হাসপাতালে ডেলিভারি নিরাপদ করতে ৫জন দক্ষ ধাত্রী রয়েছেন। ডেলিভারি হওয়ার পর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জন্ম নেয়া শিশুর জন্য জামা-কাপড় এবং মশারি ঐ শিশুর মাকে উপহার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিন দিন নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে প্রসূতিদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ হাসপাতালে নিরাপদে এ ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।
এভাবে নরমাল ডেলিভারি হলে মানুষের অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও নিরাপদ হবে।

Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর