বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯ এর ফরম ফিলাপ ও কোচিং এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে 
হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আমতলীতে মানিকঝুড়ি “মোহাম্মাদ পুর মাহ-মুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার” কিছু প্রভাবশালী শিক্ষকরা।মাদ্রাসা বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, সরকারী ফি বাবদ ১৩৫০-১৭৫০/-টাকা কিন্তু মানিকঝুড়ি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এক এক শিক্ষার্থীর কাছে থেকে নিচ্ছে ৬৫০০/-টাকা করে।মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন শিক্ষা খাতে শত শত কোটি টাকা ভূর্তকী দিয়ে দেশকে উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত বিনা খরচে লেখা-পড়া করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা বাবা মায়ের কষ্ট করা টাকা দিয়ে নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারি না তাই আমরা গ্রামের কাছে অল্প খরচে পড়ার চিন্তা করি। আর বাবা-মায়েরাও স্বল্প খরচ পেলে পড়াতে চায় বেশী খরচ করে পড়াতে চায় না।আমাদের বাবা-মাকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলভন দেখিয়ে আমাদের ভর্তি করা হয়। কিন্তু আমাদের ভর্তির পরে যখন ক্লাস শুরু হয়, তখনই শুরু হয় তাদের কাছে আমাদের জিম্মি করা। মনে হয় আমরা যেন এখানে এক প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তে আসছি।বছরের শুরুতে ক্লাস শুরু হতে না হতেই আরম্ভ হয়ে যায় তাদের কোচিং বানিজ্য। ক্লাস শুরুর ২-৩ মাস যেতে না যেতেই বাধ্যতা মূলক ভাবে পড়তে হয়ে প্রাইভেট/কোচিং। আর যদি কেউ প্রাইভেট পড়তে না চায়, তাহলে সে যে তার ক্লাসের স্টুডেন্ট তা মনে করে না সেই শিক্ষক। বিশেষ করে গনিত শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন (নোমান) , তার বিরুদ্বে অত্র প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমারা যদি তার গনিত সাবজেক্ট প্রাইভেট না পড়ি তাহলে আমাদের ক্লাসে ভাল ভাবে তিনি অঙ্ক করান না এবং তার কাছে ক্লাশ টাইমে কোন সহযোগিতা চাইতে গেলে তিনি বলেন, প্রাইভেট পড় তাহলে সব জেনে যাবে।তিনি আমাদের আরো হুমকি দিয়ে বলেন, তোমরা যারা আমার কাছে প্রাইভেট পড়বা তাদের আমি হাতের মার্ক বাড়িয়ে দিব আর যারা পড়বে না তাদের ব্যাপারে আমি কি করব জানিনা। তাহলে তোমরাই ভেবে দেখ কি করবে। আর শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে, তাদের কাছে থেকে এসএসসি ফরম ফিলাপ এর নামে ৬৫০০/-টাকা নেয়া হচ্ছে, এই বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে নিষেধ করে বলতে বলা হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে মাত্র ২০০০/- টাকা করে নিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তিনি আমাদের এমন ভাবে কথা বলেন যেন আমরা তার কাছে জিম্মি। তিনি আমাদের এই ভাবে জিম্মি করে বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আমরা অসহায় দরিদ্র শিক্ষার্থীরা কি করব, ভয়ে ভয়ে থাকি যদি প্রাইভেট না পড়ি তাহলে স্যার ভাল চোখে দেখেন না, তাই বাধ্য হয়ে বাবা-মার কষ্ট করা টাকা দিয়ে পড়তে হচ্ছে নয়ত লেখা-পড়া ছেড়ে দিতে হবে।
আর অবিভাবকরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার এতো সুবিধা দেওয়ার পরে ও যদি প্রতিষ্ঠান এই রকম ভাবে দুর্নীতি আর অন্যায় ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়, তাহলে আমরা যারা গরীব ও সাধারণ মানুষ আছি তারা আমাদের সন্তানদের মানুষ করব কিভাবে। আর এই রকম শিক্ষকদের কাছে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরাও বা কি শিখবে। যেখানে সরকারী ফী সর্বোচ্চ ১৩৫০-১৭৫০/- টাকা সেখানে আমরা কিভাবে এত টাকা দেব।
অনেক অসহায় বাবারা বলেন, এখন আমাদের বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে অথবা সূদ নিয়ে মাদ্রাসায় টাকা দিতে হচ্ছে, নয়তো ছেলে মেয়েরা পরীক্ষা দিতে পারবে না।তাই আমরা বাংলাদেশ সরকার এর শিক্ষা-মন্ত্রনালয় এবং আমতলীর শিক্ষা-প্রশাসন এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, তারা যেন এই কোচিং নামের বানিজ্য আর তাদের সরকারি ফী ছাড়া অন্য কোন অতিরিক্ত ফী নিতে না পারে তারা যেন অতিশীঘ্রই সেই ব্যবস্থা নেন এবং তাদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত ফী নেওয়া হয়েছে তাদেরকে যেন অতিরিক্ত বাকী টাকা ফেরত দেয়া হয়।শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এই বিষয়ে সব কিছু জানা সত্বেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাদের মনে হচ্ছে, গনিত শিক্ষক তাকে না জানিয়ে একা একা এই কাজ করতে পারে না। তিনিও সবকিছুর সাথে জড়িত।সর্বশেষে এসএসসি পরিক্ষার্থীরা শিক্ষা-মন্ত্রনালয় এর সাথে জড়িত সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা এই দুর্নীতি আর অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে গেলেও যেন তাদের পরের প্রজন্ম যেন এই হয়রানীর শিকার না হন, তারা যেন এই বিষয়ে খুব কঠোর ব্যবস্থা নেন।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৫ নভেম্বর ২০১৮/ইকবাল