জামালপুর প্রতিনিধিঃ
এই সেই বিদ্যালয় যার নাম ছোলেমা আহমদ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, জামালপুর সদর উপজেলার ৩নং লক্ষীর চর ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামে ২০০০ খ্রি: স্থাপিত হয় ( ই,আই,এন,এন, নং-১০৯৮৬২) । এই প্রতিষ্ঠানে এসে আমাদের শিক্ষা বিষয়ক সকল ভাবনা উল্টা পাল্টা হয়ে গেছে, মনে হয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা দিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা ও শিক্ষা মনীষিদের চিন্তা গুলো কে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে শুধু টাকা আয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র মসজিদ, মন্দির, গীর্জার সাথে তুলনা করা হয়, শিক্ষক শুধু মানুষ গড়ার কারিগর নয় বরং ১টি জাতির সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক সহ সার্বিক উন্ননের জন্য দক্ষ মানব সস্পদ হিসাবে গড়ে তোলা । এই প্রতিষ্ঠানের ছলে-বলে কৌশলে নামধারী প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম অর্থ উর্পাজনের লক্ষে সারকারের সকল বিধি-বিধান কে তোয়াক্কা না করে নিয়োগকে নিলামে তুলেছে, যে বেশী টাকা দিতে পারবে তার চাকুরী কনর্ফাম হয়ে যাবে এমনি মন্তব্য করেন প্রতারিত শিক্ষকরা ।
এই বিদ্যালয়ে শুধু প্রধান শিক্ষকই ০৩ জন নয় বরং সহকারী শিক্ষক ( শরীর র্চচা ) ০২ জন , ১ জন নিয়োগ প্রাপ্ত, অন্যজন নিলামের ডাকে আসা, ও অফিস সহকারী ০২ জন ,০১ জন নিয়োগ প্রাপ্ত অন্য জন নিলামে।
প্রতারিত হওয়া সহকারী শিক্ষক ( শরীর র্চচা) মোঃ মিজানুর রহমান জানান যে, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বুলবুল আহম্মেদ ৩০/১২/২০০০ইং তারিখে নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং একই তারিখে মোঃ রফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক হিসাবে ও সরকারের নিয়ম অনুযাযী পিয়ন সহ মোট ০৯ জন কে প্রতিষ্ঠাতা কমিটিতে নিয়োগ দেন । কিন্ত ২০১২ সালে নতুন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বিদ্যুৎ এর প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের কাজ নিয়ে ঝামেলা হয় ।
যার ফলে ০৩/১১/২০১২খ্রিঃপ্রধান শিক্ষক কে সভাপতি বহিস্কারে চিঠি দেয় এতে করে সকল শিক্ষক, ছাত্রীরা ও অভিভাবক সদেস্যরা নিন্দা জানান এবং ফলে ম্যানেজিং কমিটির ১৪/১১/২০১২ ইং তারিখে আফজাল হোসেন বিদ্যুৎ কে কমিটির সভাপতি পদ হতে অনাস্থা দেন ও অভিভাবক সদস্য হিসাবে হাসু গত ২৫/১১/২০১২ইং তারিখে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিকট আবেদন করেন এবং ২৬/০২/২০১৩ ইং তারিখে বোর্ড হতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করার অনুরোধ করা হয় ( নং-৭৬/নতুন/জামাল/২৭১৬) ।
প্রধান শিক্ষক বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন যার নং ১৪৯৭১/ ২০১২ খ্রি: । কিন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা র্বোড, ঢাকা-১২১১, হতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন আরবিট্রেশনের আয়োজন করা হয় নি বিধায় তিনি নিজ পদে বহাল থাকেন । গত এপ্রিল ২০১৭ খ্রি: হতে ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা চলে যান প্রধান শিক্ষক , ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে বি,এস,সি শিক্ষক মো: গোলাম কবির কে দায়িত্ব দেন । প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে মোঃ রফিকুল ইসলাম বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেনের বিদ্যুৎর সাথে হাত মিলিয়ে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দাবী করা সহ আরোও ০৩ জন নতুন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয় ২০১৭ খ্রি: Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics (BANBEIS অফিসে বার্ষিক শিক্ষা জরিপে প্রধান শিক্ষকের নামের জায়গায় রফিকুলের নাম ও আমার ( মিজানুর রহমান) বাদ দিয়ে প্রেরন করেন , অথচ ২০১৬ খ্রি: পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক হিসাবে রফিকুলের ইসলামের নাম ।
এবং প্রধান শিক্ষক হিসাবে সিল মহর ব্যবহার করে বিভিন্ন কাগজ পত্রে সাক্ষর করেন এবং বিদ্যালয়ে ২২/১০/২০১৭খ্রি: এহডক কমিটি ও স্বীকৃতি নবায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা র্বোড, আবেদন দেন ও বিদ্যালয় হতে শিক্ষক হাজিরা খাতা সরিয়ে ফেলে নতুন খাতায় সাক্ষর করতেছে।
তিনি আরোও বলেন যে, আমি ( মিজানুর রহমান ) ২০/১২/২০০৩ খ্রি: সহকারী শিক্ষক ( শরীর র্চচা ) হিসাবে যোগদান করি ও ২৫/১২/২০১৬ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এর নিকট হতে পাকসী বিপিএড কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যায় ও ০১/০১/২১৭ইং হতে ৩১/১২/১৭ ইং পর্যন্ত প্রশিক্ষণরত ছিলাম, আমি প্রশিক্ষণ রত থাকা অবস্থায় রফিকুল ইসলাম আমার নিকট ৫ লাখ টাকা চান এই বলে যে, বিদ্যুৎ চেয়ারম্যান দিতে বলেছে সামনে স্কুল এম, পি, ও ভুক্ত হবে টাকা যদি না দেন তবে আপনাকে বাদ দেওয়া হবে । আমি বলেছিলাম যে, আপনি এর আগেও চেয়ারম্যান এর কথা বলে ২ লাখ নিছেন, এবার আমি প্রধান শিক্ষক কে না জানিয়ে ১ টাকাও দিব না । তাই ২০১৭ সালে বেনবেইস অফিসে আমার নাম রফিকুল স্যার দেয় নি । আমি প্রশিক্ষণ শেষ করে এসে দেখি বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আমার ব্যক্তিগত ফাইল হতে নিয়োগ ও যোগদান পত্র নেই আমি( মোঃ মিজানুর রহমান) বাধ্য হয়ে তদন্ত কেন্দের সাধারণ ডাইরী করি ও মহামান্য উচ্চ আদালতে আমি ও অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন গত মে মাসে রিট পিটিশন ফাইল করি ।
অতপর অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে জানতে পারি তার নিকট ৭ লাখ টাকা রফিকুল দাবী করেন চেয়ারম্যানের কথা বলে । তিনি টাকা না দেওয়াই তাকে বাদ দিয়ে মো: মোখলেচুর রহমান নামক একজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন ,তিনি আরোও জানান যে, ৩১/১২/২০১৬খ্রি: কমিটির মেয়দ শেষ হয় এখন পর্যন্ত ও কমিটি হয়নি যে নতুন ০৪ জন শিক্ষকের নাম বেনবেইসে তথ্য দিয়েছেন তাদের নিয়োগ সঠিক করতে ব্যাকডেটে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেবার জন্য বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে ঘোরাগুরি করতেছেন রফিক স্যার । তিনি আরোও বলেন যে আমি শুনেছি প্রতিজনের কাছ থেকে এম,পি,ও হবে স্কুল এইবলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নিয়েছেন তাতে করে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন ।
আমরা তথ্য পেয়েছি যে, এই বিদ্যালয়ের কমিটি না থাকার কারনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গত ১০/১০/২০১৭খ্রি: ৭৬/নতুন/জামাল/০৬৯২ এই সূত্রে কারন দর্শনোর নোটিশ দেন এবং ১১/১২/২০১৭ খ্রি: এডহক কামিটির গঠনের অনুমতি দেন কিন্ত এখনো ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন হয় নি তাহলে নিয়োগ কি করে হয়? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২১ অক্টোবর ,২০১৫খ্রি:/০৬
কার্তিক ১৪২২ বঙ্গাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক অনুবিভাগ হতে প্রজ্ঞাপনে এস, আর, ও নং-৩০৯-আইন/২০১৫ ।=(Non- Government teachers Registration and Certification Authority ( NTRCA.আইন,২০০৫ ( ২০০৫সনের ১নং আইন এর ধারা ২১-এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যায়ন বিধিমালা, ২০০৬-এ সংশোধন করে বিধি ৩ এর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (Non- Government teachers Registration and Certification Authority ( NTRCA নিকট যেখানে ম্যনেজিং নিয়োগ দেয়ার কোন ক্ষমতা রাখে না । তাহলে মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ বাকী নতুন ভাবে ২০১৭ সালে যারা এসে শিক্ষকতা করেছেন এদের নিয়োগ দিয়েছেন কে? এ বিষয়ে জানার জন্য মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন যে, টাকা ও দলের ক্ষমতা থাকলে কোন আইন বা বিধি কিছুই করতে পারে না , আমি আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড় কৃষক লীগের কমিটির সভাপতি এ ছাড়া আফজাল হোসেন বিদ্যুৎ ম্যনেজিং কমিটিতে সভাপতি করেছি ও আলহাজ রেজাউল করিম হীরা, সাবেক ভূমি মন্ত্রী ভূমি বিষয়ক স্বায়ী কমিটির সভাপতি এবং জামালপুর -৫ আসনের সংসদ সদস্য বলছে চিন্তা করো না আমিতো আছি , অথচ জামাল পুর ৫ আসনের এম,পি অতি সহজ সরল প্রকৃতির আজ পর্যন্ত অন্যায় কোন কাজ করেছেন তার প্রমান নাই কিন্ত উনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারী দপ্তর গুলিতে, এম,পি বোধ করি নিজেও জানেনা যে, কি ভাবে ব্যবহার হচ্ছেন তিনি । রফিকুল ইসলাম কে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন টাকাতো নিতেই হবে টাকা ছাড়া এম,পি,ও , এবং নিয়োগের কাজ করবো কিভাবে এতে প্রমান হয় যে শিক্ষকদের নিকট হতে টাকা নিয়েছে মোটা অংকের । মোঃ রফিকুল ইসলাম এর কথা শোনে মনে হলো জেলা শিক্ষা অফিস হতে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত তার ডান হাত বাম হাতের কাজ ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকারী শিক্ষক বলেন যে, এত অনিয়ম যে বলে শেষ করা যাবে না এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্রী হলো-০৭ জন, ৭ম এ ০৩ জন, ৮ম শ্রেণীতে ২০ জন তার মধ্যে কে,জি স্কুলের ১২ জন এই স্কুল হতে রেজিস্টেশন করেছেন ।অন্য দিকে শিক্ষক সংখ্যা ১৫ জন ।
এই যদি হয় শিক্ষকের কাজ আর কমিটির সভাপতির ভূমিকা যদি হয় এমন তবে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে কি আশা করা যায় ! এভাবে প্রতিষ্ঠান চলতে থাকলে জনমনে প্রশ্ন উঠবে তাহলে শিক্ষা বিষয়ক যত পরিপত্র, গেজেট, প্রজ্ঞাপণের কথা গুলি কি কাগজেই লিখা থাকবে না কি প্রয়োগও হবে ? প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠো ফোনে বলেন যে , পরে কথা বলবেন আরো ও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৯ জুন ২০১৮/ইকবাল