রংপুর জেলা প্রতিনিধি:
গত ৪ মে ২০১৮ থেকে সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে এবং ১৫ মে থেকে এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে সারা দেশে শতাধিক, তার মধ্যে বৃহত্তর রংপুর জেলায় ৯ জন নিহত হয়েছে।
আসা যাক রংপুর জেলার কর্মকান্ড! এ যাবত রংপুর জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানে রংপুর পুলিশ কন্ট্রোল-এর হিসাব মতে মাদক বিরোধী মামলা হয়েছে ৫১টি, এই মামলার আসামী সংখ্যা ৭৯ জন, গ্রেফতার ৬৬ জন। মাদক উদ্ধার হয়েছে ফেন্সিডিল ১৫৮ বোতল, গাঁজা ৩,৪৯৫ গ্রাম, ইয়াবা ১,৮২৫ পিচ, হেরোইন ১৬ পুরিয়া। রংপুর জেলায় এ যাবত মাদক বিরোধী অভিযানে মোট ৮১ জন গ্রেফতার হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, প্রশাসন ও অপরাধ, মো: আবু মারুফ হোসেন-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান একটি নিয়মত কর্মকান্ড। এটা অতীতে চলছিল, বর্তমানেও চলছে, ভবিষ্যতেও চলবে। ওনাকে মাদক ব্যবসায়ী ও গড ফাদারদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। দেশে মাদক যেভাবে মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করাই আমাদের কাজ। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রংপুরে মাদক সংশ্লিষ্ট যে ৯৯ জনের নাম প্রকাশ হয়েছে তা আবারো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওনার কথার সাথে একমত পোষণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘এ’ সার্কেল সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, রংপুরে যে ৯৯ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাদের আমরা নজরে রাখছি এবং তদন্ত চলছে, তাদের মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে যে নামগুলো এসেছে তা বিভাগীয় তদন্ত চলছে। অপরাধী হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ব্যবস্থা নেবে, তবে মাদকসহ হাতে-নাতে কাউকে ধরা হলে কোন রকম ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশ অফিসসূত্রে রংপুর জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানের এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮১ জন গ্রেফতার ও বৃহত্তর রংপুর জেলায় ৯ জন ক্রসফায়ারে প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা যায়। প্রাইভেট ডিটেকটিভ প্রতিনিধি এই অভিযানে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সহিত সাক্ষাতে বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, মাদক বিরোধী অভিযানে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে কিন্তু বিচার বর্হিভুত হত্যাকান্ড সমর্থন করি না। সরকারের উচিত বিশেষ আদালত গঠন করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। রংপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মানিক-এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসা ও সেবন করে তারা এ সমাজে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে, এ সমাজ থেকে তাদের বিতাড়িত করা উচিত।’ অপরদিকে ব্যবসায়ী মো: শফিকুজ্জামান ও দুলাল সরকার এই অভিযানকে একইভাবে সমর্থন করেন, তবে বিচার বর্হিভুত হত্যাযজ্ঞ সমর্থন করেন না। ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাদক ইয়াবা ব্যবসার চেয়েও পর্ণ ব্যবসার ভয়াবহতা বর্তমান সমাজে মারাত্মক আকার ধারণ করছে, তা প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।’ অটো ড্রাইভার মো: মুকুল ও পথচারী দুলাল মিয়া ও রংপুরের লক্ষ্মী টকিজের চায়ের দোকানদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনিও মাদক বিরোধী অভিযানকে সমর্থন করেন কিন্তু তারাও বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেন।
সুশীল সমাজ মনে করেন, এই মাদক বিরোধী অভিযান সরকারের পক্ষে একাই সমাধান করা সম্ভব নয়। এটা সামাজের জাতীয় সমস্যা। তারা অবিলম্বে দেশের সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়ে শহর, গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করে, মাদক নিরোধসহ সর্বস্তরে-এর কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। পক্ষান্তরে ভারত সীমান্ত ও মায়ানমার সীমান্তে দেশপ্রেমিক বিজিবি দ্বারা কঠোরভাবে বর্ডার সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে করে কোন ভাবেই ভারত ও মায়ানমার থেকে মাদক এদেশে ঢুকতে না পারে, তা হলেই মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে অন্যথায় সম্ভব নয়।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩০মে২০১৮/ইকবাল