আরিফুর রহমান সেতু, বিশেষ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মুসা বাহিনীর ঘটনার পর এবার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব সুনামগঞ্জের আরও এক ভয়ানক চোরাকারবারি ও সিন্ডিকেটের আরেকজন সদস্য এর কুকীর্তির ঘটনা যা জানার পর অনেকেই শিউরে উঠবেন। চলুন প্রথমেই জেনে নেয়া যাক কে এই সিন্ডিকেটের হোতা।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আনন্দবাজার নামক স্থানে তার বসবাস। ২০০৮ সালের পূর্বে সে ছিল এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই ব্যক্তি এখন ঐ গ্রামের সবচেয়ে ধনী লোক। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় মোঃ আলি (৪০) এই এলাকায় অনেক কষ্ট করেছে। কিন্তু হটাত কি এমন কাজ করল যে ঐ গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এখন এই আলি। শুরুটা ঐ ২০০৮ এর শেষ এর দিকে। তখন সে জানতে পারে এই তক্ষক এর সম্পর্কে। ২০০৮ এর শেষে সীমান্তে অবস্থিত গারোদের কাছ থেকে সে একটি তক্ষক হাতিয়ে নিয়ে আসে এবং শুরু হয় তার খেলা। দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে এক লোক এসে তার কাছ থেকে এটি ১৫ লক্ষ টাকায় কিনে নিয়ে যায়। নগদ এত টাকা পাবার পর তার মাথায় চেপে বসে দুষ্টু বুদ্ধি। পরবর্তীতে এই তক্ষক তার নিকট আরও আছে বলে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নিতে থাকে। এই ব্যবসার পাশাপাশি সে গারোদের সাথে হাত মিলিয়ে শুরু করে মাদক ও চোরাচালানের ব্যবসা। এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এ বিষয়ে জানলে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে শান্ত করেন। আশ্চর্যের বিষয় একটি লোক এত কিছু করছে অথচ প্রশাসনের নিকট এই বিষয়ে কোন তথ্যই নেই।
ঢাকা থেকে তক্ষক কিনতে সুনামগঞ্জে যান মোঃ শুকুর আলি ( ছদ্দনাম)। তিনি ঢাকায় এক সিন্ডিকেটের প্রলোভনে পড়ে নিজের জমি বিক্রি করে নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেই আলির নিকট গেলে অনেক আদর আপ্যায়ন করে নিজের বাড়ীতে অতিথি হিসেবে রাখেন। রাতে তার নিকট তক্ষক দেয়া হবে আশ্বস্ত করে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেয় মোঃ আলি। পরবর্তীতে আর কিছুই বলতে পারেন না নিঃস্ব হওয়া শুকুর আলি। তাকে অজ্ঞান করে ফেলে দেয়া হয় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। সেখান থেকে দুই দিন হেটে জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে আসেন। সেখানে এক লোকের সহায়তায় তিনি ঢাকায় ফেরত আসেন। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের আলির সাথে যোগাযোগ করা হলে শুকুরকে তিনি চিনতেই পারেন না। ঢাকায় যাদের মাধ্যমে সেখানে পরিচয় তারাও তাকে চিনতে পারেন না। এখন কোথায় যাবেন তিনি। কাজটি অবৈধ বিধায় পারছেন না পুলিশের নিকট অভিযোগ করতে। এভাবেই তক্ষকের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হলেন আরও এক ব্যক্তি।
আমাদের পরবর্তী অনুসন্ধানে জানানো হবে ঢাকার সেই সিন্ডিকেটের যাদের কল্যাণে শুকুর আলি নিঃস্ব হল। জানতে হলে সাথেই থাকুন প্রাইভেট ডিটেকটিভের।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৮ মার্চ ২০১৮/রুহুল আমিন