মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজারঃ
শ্রীমঙ্গলে উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্সীমানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কুচক্রীমহলের একক অপতৎপরতায় চতুর্সীমা সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের সঠিক কাগজাত না দেখেই দাতা সদস্য এবং স্কুল কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ না করেই চতুর্সীমানা নিধারনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভৃমি অফিসের সার্ভেয়ার অযৌত্তিক ভাবে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পায়তারা করছেন। এ ঘটনায় উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিৎ কমিঠির সভাপতি ও স্কুলের দাতা সদস্য আমিনুর রশিদ তালুকদার চতুর্সীমানা নিধারনে সঠিক কাগজ যাছাই বাছাই করে জরুরি প্রদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা অফিসার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিদ্যালয়ের উত্তর সীমানার কিরানের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সার্ভেয়ার যাওয়ার কিছুদিন পর স্কুলের উত্তর সীমানার কিরান তার জায়গা পুনরায় একজন লোকাল সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ দিলে শ্রীমঙ্গল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের দেয়া খুটির সাথে দৈর্ঘ্য ৮.৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৪০ ফুট প্রায় (প্রায় তিন শতক) জায়গার ব্যবধান পাওয়া যায়। এবং স্কুলের পূর্ব সীমানার কিরানের (দাতা কিরান) সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের জায়গা ঠিক এমনি ভাবে দানকরা জায়গার চেয়ে বেশি জায়গা নিয়ে নেওয়া হয়। জানা গেছে- শেখ আঃ গাফফার নামীয় একজন শিক্ষানুরাগী ১৯৯২ সালে ১ জুন ১জন শিক্ষক ও ১৫জন ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে শ্রীমঙ্গল উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ একটি চক্র চতুর্সীমা সংক্রান্ত বিবাদ সৃষ্টি করে চলমান উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করছে। উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রায় জানান- বিদ্যালয়টি জাতীয়করন করা হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক ও ২শত ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়ের ৩৩শতক ভৃমির চতুর্সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের কারনে ভবন নির্মান করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিৎ কমিঠির সভাপতি ও স্কুলের দাতা সদস্য আমিনুর রশিদ তালুকদার জানান- বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে সিলিং ছাদ, সাইনবোড, গেইট, নিধারিত পোষাক বিতরন করেছি। একটি চক্র প্রায় ২০ বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ ভাবে দখল করেছে। এ নিয়ে গত ২০১৭ সালের ৯ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ১৮ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কর্তৃক ছয়জন কিরানের মধ্যে ৫জন মৌরসী কিরান ব্যতীত কেবলমাত্র একজন খরিদা কিরানের ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে চতুর্সীমা জরিপ করেন। বিদ্যালয়ের সঠিক কাগজপত্র যাচাই করে পুনরায় আবেদন করলে যোগাযোগীমূলে একই ভাবে তিনি চতুর্সীমা নির্ধারনে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রায় জানান- বিদ্যালয়টি জাতীয়করন করা হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক ও ২ শত ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়ের ৩৩ শতক ভৃমির চতুর্সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের কারনে ভবন নির্মান করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৪ মার্চ ২০১৮/রুহুল আমিন