বেগমগঞ্জ থেকে মোঃ আনিছুল হকঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত কয়েকটি খালে মাছ ও মুরগী খাদ্য ফ্যাক্টরীর কেমিক্যাল ও আবর্জনা পানির সাথে মিশে বিষাক্ত হওয়ার কারণে খালপাড় সহ আশে পাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানি ব্যবহার করে পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমুহনী-নোয়াখালী খাল, বেগমগঞ্জ-মহেন্দ্র খাল, চৌমুহনী-ছাতারপাইয়া খাল, চৌমুহনী-ফেনী সংযোগ খাল সহ কয়েকটি শাখা খালে পার্শ্ববর্তী মিরওয়ারিশপুর, চৌমুহনী মহেশগঞ্জ বাজার এবং এর পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মোরগ ও মাছের খাদ্য তৈরির কারখানা অপরিকল্পিত ভাবে নির্মাণ করে খাল গুলিতে প্রতিদিন কেমিক্যাল ও ময়লা আর্বজনা ফেলে থাকে। ফলে খালগুলোর পাড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ ও আশ পাশের লোকজন খালের বিষাক্ত পানি ব্যবহার করে চুলকানী, ফোঁড়া, চামড়া উঠে যাওয়া, হাঁচি, কাঁশি, মাথা ব্যাথা, চোখে মুখে পানি বের হওয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ জানান, কারখানা গুলো থেকে খালপাড় দিয়ে দূরে হলেও দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত পাইপ লাইন দিয়ে কেমিক্যাল ও ময়লা আবর্জনা ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে খালপাড় ও তার আশপাশের মানুষ রোগ ব্যাধি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে রক্ষা পাবে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, বেগমগঞ্জে কয়েকটি খাল ও শাখা খালে দেশীয় জাতের মাছ সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে প্রতি বছর অভয়ারণ্য সাইন বোর্ড টাঙ্গানো হলেও কে বা কাহারা সাইন বোর্ড তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া বিষাক্ত কেমিক্যাল ও আবর্জনা খালে পড়ে মাছের ক্ষত রোগ সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শৈল, টাকি, কৈ, গজার, মেনি মাছ সহ সকল প্রকার দেশীয় মাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ভোক্ত ভোগীরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/রুহুল আমিন