-
- লিড নিউজ, সারাদেশে
- সিলেটে মুজিববর্ষের ঘর ফেরত; বঞ্চিত হলেন প্রায় ৬০০ পরিবার
- আপডেট সময় August, 29, 2021, 11:15 pm
- 352 বার পড়া হয়েছে
আরিফুর রহমান সেতুঃঃ
সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে ফেরত যাচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের ঘর। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে এই দুই উপজেলার প্রায় ছয় শতাধিক ভুমিহীন পরিবার। মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে আশ্রয়ন – ২ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু ভৌগলিকভাবে বালাগঞ্জ এবং ওসমানীনগর উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ার কারনে অনেক স্থান রয়েছে পানির নিচে যার দরুন সময়মত কাজ শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায় বালাগঞ্জ উপজেলায় মোট ৮৭৫ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল যেখানে বাস্তবায়িত হয়েছে ২৮৫ টি এবং ৭৮ টি ঘরের কাজ চলমান। বাকি ৫১২ টি ঘরের বরাদ্দ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভূষন দাস প্রাইভেট ডিটেকটিভকে জানান, সিলেট জেলায় সবচেয়ে নিচু এবং হাওরের পানিতে বন্যা প্রবণ এলাকা হলো এই বালাগঞ্জ। নিচু জমি থাকার কারনে এই ঘরের কাজ বাস্তবায়ন করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং। প্রথমেই উঁচু জমি বাছাই করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ এই প্রকল্পে নিয়োজিত প্রত্যেকেই অনেকটা আন্তরিক ছিলো যার কারণে এই ২৮৫ টি ঘর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরো ৭৮ টি ঘরের কাজ চলমান। গত বছর ডিসেম্বরে টিন আমরা ক্রয় করেছি ৫,৬০০ টাকায় সেই একই মানের টিনের বর্তমান বাজারমূল্য ৭,৮০০ থেকে ৮,২০০ টাকা। প্রতিটা নির্মান সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভৌগলিক কারনে আমাদের প্রতিটা স্পটে নিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে যার দরুন ১,৭১,০০০ টাকায় এই ঘর বাস্তবায়ন করা আমাদের এই উপজেলায় রীতিমতো দুঃসাধ্য ব্যাপার। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি সাধ্যমত যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প সুন্দরমত বাস্তবায়ন করে উপকারভোগীর হাতে তুলে দিতে পারি। তার জন্য আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ওসমানীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে জানান, এই উপজেলায় ৫৩৩ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভৌগলিক অবস্থার কারনে এই ডিজাইনে ঘর বাস্তবায়নে আমাদের অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে। যার কারণে আমাদের উপজেলা থেকে ১২৫ টি ঘর ফেরত গিয়েছে। নিচু এলাকা হওয়ার দরুন কাজ করতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের এলাকার মাটি নরম হওয়াতে ডিজাইনে জি.এল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি গাথুনি ১.৫ ফুট দেয়ার কথা থাকলেও স্থান ভেদে আমাদের ৩ থেকে ৩.৫ ফুট পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। ডিজাইনে গাথুনি এবং প্লাস্টার ১:৬ দেয়ার কথা থাকলেও মাঠে কাজ করতে হচ্ছে ১:৪ অনুপাতে। প্রাক্কলন অনুযায়ী হোয়াট ওয়াশের কথা থাকলেও ওয়েদার কোট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি সহ নানান ধরনের প্রাকৃতিক সমস্যাকে মোকাবিলা করে আমরা কাজ বাস্তবায়ন করছি। তবে যেহেতু বাংলাদেশের সকল স্থানের মাটি একই ধরনের নয় তাই ভৌগলিক আবহাওয়া এবং এলাকাভেদে মাটির গুনাগুন চিহ্নিত করে ডিজাইন করে এই ঘরগুলোর বরাদ্দ দিলে ভালো হত।
এ জাতীয় আরো খবর