মোঃ শাহাদত হোসেন,চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রধানঃ
করোনা মহামারির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে সুদিনের অপেক্ষায় চট্টগ্রামের আবাসনশিল্প। রিহ্যাব চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতিতে এপার্টমেন্ট বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত প্রায় চার মাসে চট্টগ্রামের আবাসনশিল্পে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। গত জুন মাসে জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর সরকারের কয়েকটি উদ্যোগের কারণে চট্টগ্রামে স্বল্প পরিমাণে হলেও এপার্টমেন্ট বিক্রি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এরই মধ্যে কিছু কিছু প্রকল্পে কাজও শুরু হয়েছে।চট্টগ্রামে রিহ্যাব সদস্যদের ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৩০০টি।রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান এবং রিহ্যাব কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল কাইউম চৌধুরী প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, সরকার দেশের শিল্প সেক্টরকে করোনা পরিস্থিতির ক্ষতি থেকে রক্ষায় ২৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণে তা থেকে আবাসনশিল্পের সদস্যরা কোনো উপকার পাচ্ছেন না।তার পরও যদি সরকার ৫ শতাংশ সুদে দীর্ঘ মেয়াদি কিস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের এপার্টমেন্ট কেনার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল দেয় তাহলে চট্টগ্রামসহ দেশের এই আবাসনশিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।জমি ও এপার্টমেন্ট কেনা বেচায় রেজিস্ট্রেশন ফি হ্রাস, অঘোষিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ এবং আবাসিক এপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলোতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় আবাসনশিল্পে নতুন করে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।রিহ্যাব চট্টগ্রামের সদস্যরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া রিহ্যাব চট্টগ্রামের বার্ষিক মেলায় চট্টগ্রামে ২০২০ সালে ৪৫০ কোটি টাকার ব্যবসার টার্গেট ঘোষণা করেছিলেন রিহ্যাব চট্টগ্রামের প্রধান আবদুল কাইউম চৌধুরী। ২০১৯ সালে ৩২০ কোটি টাকার ব্যবসা করার প্রেক্ষাপটে এ টার্গেট ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি এই লক্ষ্যকে ব্যাহত করেছে।চট্টগ্রামের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এপিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও রিহ্যাব সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এস এম লোকমান কবির প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, মহামারি করোনার কারণে এ শিল্প আবারও সংকটে পড়েছে।তবে সরকার অন্যান্য সেক্টরের মতো এ সেক্টরকে প্রণোদনা দিয়েছে শুনেছি।প্রণোদনা যদি নিশ্চিতভাবে পাই তাহলে আমরা আরো ব্যাপকভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারব।তিনি আরো বলেন, যদি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এপার্টমেন্ট কেনার সুবিধা প্রদানে সরকার দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে স্বল্প সুদে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রদান করে তাহলে এ শিল্প এবং জনগণ উপকৃত হবে।এছাড়া রিয়েল এস্টেট শিল্পের সঙ্গে বিদ্যুত্, গ্যাস, লৌহজাত অবকাঠামোশিল্প, রিরোলিং মিল, সিমেন্টশিল্প, সিরামিকস-টাইলস শিল্পসহ হাজারটা প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ লোকের জীবিকা জড়িত। কাজেই সরকার এরকম উদ্যোগ নিলে এ শিল্পগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারবে।চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। এরই মধ্যে জমি ও এপার্টমেন্ট কেনাবেচার রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২১ জুলাই ২০২০/ইকবাল