-
- লিড নিউজ, সারাদেশে, স্বাস্থ্য
- রাজশাহীর তানোরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ইউএনও এবং থানার ওসি
- আপডেট সময় May, 17, 2020, 2:10 am
- 187 বার পড়া হয়েছে
রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :
মহামারী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো এবং তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাকিবুল হাসান। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবং এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তানোর উপজেলা প্রশাসনসহ থানা পুলিশের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। করোনার প্রতিরোধে প্রথম থেকেই উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিং, প্রচারপত্র বিলি, হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন, বিনা প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের না হওয়া, নিশ্চিতে তদারকী, বিদেশ ফেরৎ ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকী, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশ ফেরৎ ব্যক্তিদের উপরে রেখেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিত। এ ছাড়াও প্রয়োজনে কেউ যেন বাড়ি থেকে বের হলেও সামাজিক দুরত্ব (এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দুরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট) বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশনায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো অদ্যবধি নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।
এ ছাড়াও কোন প্রকার সর্দি-কাশি’র রোগী তথা করোনার লক্ষ্মণ গুলো দেখামাত্রই প্রশাসনকে অবগত করার পরামর্শ, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে নিয়মিত বাজার তদারকী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণসহ দেশের এই জরুরী পরিস্থিতিতে তানোর বাসীকে সর্বোচ্চ সচেতন করতে এবং সরকারের দেয়া নির্দেশ বাস্তবায়নে ইউএনও এবং ওসি দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারিসহ নিয়মিত ভাবে থানার ওসিকে নিয়ে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনে ঘরবন্দী অসহায় গরীব দুখী মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদেশ ফেরৎ ব্যক্তিদের বাড়িগুলো চিন্হিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়নে বাধ্য করা হয়েছে। এ নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিদেশ ফেরৎ কেউ যদি সরকারী নির্দেশ অমান্য করে তার বিরুদ্ধে ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করার প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।
অপরদিকে, তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাত্মা হয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে। জনগণকে সচেতন করার জন্য তানোর উপজেলার সর্বত্র জনসচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। এমনকি জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের সহযোগিতায় ইতোমধ্যেই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশ বাস্তবায়নে থানা পুলিশ সর্বক্ষণ আন্তরিক ভূমিকা পালন করে চলেছে। পাশাপাশি দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণকে সর্বোচ্চ সচেতন হতে এবং সরকারী সকল নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি উদাত্ব আহবান জানান থানার অফিসার ইনচার্জ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৭ মে ২০২০/ইকবাল
এ জাতীয় আরো খবর