শাহিন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীণ এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এতে করে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে গৃহবন্দী হয়ে পরা মানুষগুলোর। কিন্তু বন্ধ হয়নি তাদের ব্যয়ের পথ। নিন্ম আয়ের মানুষগুলোর হাতে খাবার এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তুলে দিচ্ছেন অনেকেই। সরকার এবং বিভিন্ন সংগঠনগুলো নিন্ম আয়ের মানুষদের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছে।
তবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারগুলোর পাশে কেউ নেই। উচ্চ বিত্তদের টাকার অভাব নেই ফলে তাদের অভাবও নেই এবং তাদের কোন প্রকার টেনশন নেই। আর মধ্যবিত্তদের নেই ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমানো অর্থ,সাহয্য-সহোযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেনা কেউ। ঘরে খাবার না থাকলে ও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছেনা।কিন্তু ভালো নেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো। লোকচক্ষুর ভয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে কোথায় ত্রাণ আনতে যেতে পারছেন না। আত্মসম্মানবোধ তাদেরকে বাধা দেয়। ঘরের মধ্যে তারা না খেয়ে থাকলেও বের হচ্ছেন না। এক বুক কষ্ট আর ব্যথা নিয়েই জীবনের বাস্তবতা মোকাবেলা করছেন তারা।
তেঘরিয়া ইউনিয়নের একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক তিনি বলেন, কিছু টাকা জমানো ছিলো তাও শেষ হবার পথে অপরদিকে এখনো রমজান মাসের বিশ দিন বাকি। অন্যসব মাসের তুলনায় রমজান মাসে সংসারের খরচটা একটু বেশী। এভাবে চলতে থাকলে করোনায় নয় না খেয়েই মরতে হবে আমাদের। কারন লাজ- লজ্জায় আমরা কারো নিকট সাহয্য চাইতে পারছিনা আবার কেউ সাহায্যের হাত ও বাড়িয়ে দিচ্ছেনা।
হাটখোলা বাসিন্দা আমেনা বেগম নামে এক নারী বেশ আক্ষেপ নিয়ে বলেন,বড়োলোকের টাকা আছে,গরীবরা ত্রাণ পাচ্ছে আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে মুখ লুকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছে।
মধ্যবিত্তরা যেনো এ দেশের নাগরীকদের কাতারে পরে না। কারন আমরা তো লাইনে দাড়াতে সক্ষম না। এ পরিস্তিতিতে সরকার ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর একটু দৃষ্টি আমাদের প্রতি রাখা উচিত।
সচেতন মহলের একজন নাগরিক বলেন,গরিবদের কান্না সবাই শুনে কিন্তু মধ্যবিত্তদের কান্না শুধু চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ।লোকলজ্জার কারনে তারা কারো কাছে হাত পাততে পারে না।অন্যদিকে নিম্নবিত্তদের সাহায্য করার জন্য দেশে মানুষ এবং সংস্থারও অভাব নেই। সমস্যা হল এই মধ্যবিত্তদের নিয়ে। এদের সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না, আবার এরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাহায্য নিবার পাত্র নয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তেঘরিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান লাট মিয়া বলেন, বিপু ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় তেঘরিয়া ইউনিয়ন
অসহায়, দিনমজুর, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তশ্রেনীর মানুষের পাশে দাড়াচ্ছি। কারন মধ্যবিত্তদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা দিন আনে দিন খায়, অথবা যাদের নিজেদের একটা ব্যবসা আছে অথবা চাকরি করে,করোনার এই সংকটের সময়ে তাদের সকল প্রকার আয় বন্ধ।তাই আমাদের সাধ্যমত সকলে পাশে দাড়ানো চেষ্টা করছি।