April 6, 2026, 10:49 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬

রাজশাহী অঞ্চলে চিনি মিশিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে খেজুর গুড়

রাজশাহী অঞ্চলে চিনি মিশিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে খেজুর গুড়

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রাজশাহী অঞ্চলে খেজুর গুড়ে মেশানো হচ্ছে চিনি। প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি চিনি মিশ্রিত খেজুর গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে করে খেজুর গুড়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। জানা গেছে, বাজারে চিনির দামের চেয়ে খেজুর গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় অন্তত পাঁচ-সাত বছর ধরে গাছিরা এ প্রক্রিয়ায় ভেজাল খেজুর গুড় উৎপাদন ও বিক্রি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে যেসব খেজুর গুড় এখন পাওয়া যাচ্ছে, তার শতকরা ৯৯ ভাগই চিনি মেশানো। গাছিরা জানান, শীত যত বেশি পড়ে, খেজুর গাছ থেকে তত বেশি রস সংগৃহীত হয়। এবার শীতের তীব্রতা শুরু থেকেই অনেক কম। ফলে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের পরিমাণও কম হচ্ছে। আবার আগের মতো ঝোঁপ-ঝাড় না থাকায় খেজুর গাছও কমেছে। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ করা না হলেও ঝোঁপ-ঝাড়ের সঙ্গে ব্যাপক হাওে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে আগের চেয়ে রস সংগ্রহের পরিমাণ অনেক কমেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাজারে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে যোগান ঠিক রাখতে গাছিরা খেজুর রসের সঙ্গে চিনির মিশ্রণে বেশি গুড় তৈরি করছে। রাজশাহীর চারঘাটের মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক আজম আলী বলেন, খেজুর রস গাছ থেকে সংগ্রহ করে এক কেজি গুড়ে পরিণত করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, বর্তমান বাজার দামে বিক্রি করে তেমন খুব একটা লাভ হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো জ¦ালানির দামও বেড়েছে। আর এ কারণেই অধিকাংশই কৃষক রস জাল করার সময় তাতে চিনি মিশিয়ে সেগুলো খেজুর গুড়ে পরিণত করছে। চারঘাটের নন্দনগাী গ্রামের কৃষক জিল্লুর বলেন, ‘শতকরা এখন ৯৯ জনই খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে গুড় করছে। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। তবে তিনি আসল গুড়ই বিক্রি করছেন। আর তার গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই। ফলে তিনি চিনি না মিশিয়ে আসল গুড়ই বিক্রি করছেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, রাজশাহীর চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘায় সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড় উৎপাদন হয়। এ ছাড়াও জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, পবা, গোদাগাড়ী ও তানোর এলাকায় গুড় উৎপাদন হয়। যা শীতকালে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। চিনি মেশানোর বিষয়টিও তাদের জানা নেই বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। রাজশাহী সিভিল সার্জন সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, খেজুর গুড়ের সঙ্গে চিনি মেশালে স্বাস্থ্যেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে খেজুর গুড় খেজুর গুড় হিসেবেই বাজারজাত করা উচিত। গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সেগুলোও গুড় হিসেবে বিক্রি করায় ভোক্তারা প্রতারিত হয়। কাজেই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তাহলে এ অসাধু প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর