March 24, 2026, 2:31 am

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

নারী নির্যাতন থেমে নেই

নারী নির্যাতন থেমে নেই

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের দিনে, প্রকাশিত নারী নির্যাতনের খবরগুলোই সাক্ষ্য দিচ্ছে, দেশে নারী নির্যাতন থেমে নেই। যশোরের মণিরামপুরে বাড়িতে ঢুকে এক কলেজছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়েছে।
সেই দৃশ্যের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে এলাকার কিছু চিহ্নিত বখাটে। বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন ওই ছাত্রীর মা। মামলা হওয়ার পর পুলিশ চার বখাটেকে গ্রেপ্তার করলেও আরো কয়েকজন প্রভাবশালী বখাটে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর পরিবার। সামাজিকভাবেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তারা। জামালপুর সদর উপজেলার এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি গ্রামের খবর এসেছে, যে গ্রামের একাধিক গৃহবধূ স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাল্যবিয়ের শিকার। আরেকটি খবরে বলা হচ্ছে, বাসাবাড়িতে ৭৯ শতাংশ নারী শ্রমিক শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একজন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এসব ঘটনায় আদালতে ৪১১টি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে প্রায় দুই হাজার ৪০০ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৪২৯ জন।
নারীর প্রতি সহিংসতা একটি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইনেই এর বিচার হতে পারে। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করতে হয়, অন্যান্য অপরাধের ঘটনার মতোই নারী নির্যাতনের ঘটনারও বিচার বিলম্বিত হয়। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনসহ নানা আইন আছে। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের যে চিত্র, তা কি আশাব্যঞ্জক? আইনের সঠিক প্রয়োগ কি হচ্ছে? নারী নির্যাতনের ঘটনার পর মামলা হলেও বেশির ভাগ অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়। সমাজও অনেক সময় নারী নির্যাতন প্রতিরোধের অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা রাখে। সঠিক বিচার না হওয়ায় নির্যাতনকারীরাই যেন পক্ষান্তরে উৎসাহিত হয়। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজ মানসেও পরিবর্তন আনতে হবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর