জামালপুরে ছয় মাস পর শিশু ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে মামলা
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

যৌন নির্যাতনের প্রায় ছয় মাস পর গত বৃহস্পতিবার ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১ ধারায় একমাত্র আসামি শাহজাহান আলী (৪৫)এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা দায়েরের পর জামালপুর পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমানিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
মামলা সূত্র এবং সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসের ১৫ তারিখে রশিদপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে একই এলাকার বাসিন্দা গনি মিয়ার লম্পট পুত্র শাহজাহান আলী (৪৫) জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের বাবা হাবিল মিয়া বলেন ঐদিন স্কুল ছুটির পর বিকাল ৪টার দিকে আসামীর বাড়ির সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরার পথে সে প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েকে তার চৌচালা ঘরে নিয়ে যায়।
আমার নাবালিকা মেয়ে কিছু না বুঝার আগেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে আসামি মেয়েকে হত্যাসহ নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কথা ফাঁস করতে নিষেধ করে।
মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা যায় সে অন্তস্বত্তা। পরে মেয়ে ধর্ষনের বিষয় প্রকাশ করায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো। মেয়ের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এর বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি।
আসামি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের হুমকী ধামকির কারণে বিচার পায়নি। মেয়েটি এবার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার্থী ছিল। পড়ালেখায় মেয়ে খুব ভালো ছিলো কিন্তু লোকলজ্জা এবং শারীরিক যন্ত্রণার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে নাই।
শয়তান শাহজাহান আমার সর্বনাশ করে দিছে। তাই আমি আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি বলে কেঁদে বুকভাসান। এদিকে জামালপুর মানব উন্নয়ন সংঘ ও ব্র্যাক এনজিওর পক্ষ থেকে জানায়. মেয়েটির বর্তমান বয়স ৪দিন কম ১২ বছর। ১৬ বছর হলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ে দেয়া যেতো। কিন্তু এখন সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি।
অপর দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক নারায়নপুর তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) মহব্বত কবির বলেন এই ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাবে। শিশু ধর্ষণ আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ মেয়েটি সমাপনী পরীক্ষা অংশ না নেওয়ার কারণ জানতে মেয়েটির বাড়ি গেলে এই দুঃখজনক ঘটনাটি প্রকাশ পায়। মেয়ের অভিভাবক জানায় এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগকে পুর্বেই অবহিত করা হয়েছিল কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছে কোন সহযোগিতা পায়নি। বিষয়টি শিক্ষা বিভাগ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীসহ সুধীমহল।
বিষয়টি প্রথমে ফেসবুক পরে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রকাশ করতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এগিয়ে আসে মানবাধিকার কর্মী এবং উন্নয়ন সংঘসহ ব্র্যাক এনজিও। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। সদর থানার মামলা নম্বর ৬৮। তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭।