April 13, 2026, 1:16 am

সংবাদ শিরোনাম
রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান কার্যক্রমে অচলাবস্থা

রুজেল আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

mostbet

হাওর এলাকার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্র্থীরা কলেজে আসলেও ক্লাস করতে না পেরে শতশত শিক্ষার্র্থী বাড়ি ফিরে যায়। কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার সুমনা বলেন, কলেজের অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছেন না। দূর দূরান্ত থেকে অনেক শিক্ষার্থী কলেজে এসে ক্লাস না কওে বাড়ি ফিরে যায়। হৃদয় শিকদার রিপন বলেন, কলেজে শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা কম তাই নিয়মিত সব ক্লাস হয় না। ¯œাতক সম্মান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান পাপন বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। একটি বেঞ্চে ৫/৬ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে শ্রেণি কক্ষে বসতে হয়। ফলে লিখতে অসুবিধা হয়। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশামনি বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস করতে হয় মাল্টিমিডিয়া বা আইসিটি প্রোগ্রামিং পদ্বতিতে কিন্তু আমরা সে সুযোগ পাচ্ছি না। নুসরাত জাহান মুন বলেন, জেলার গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। পড়ালেখার মান উন্নয়নের জন্য একটি ভালো মানের পাঠাগারের প্রয়োজন তাই এ কলেজে নেই। পাঠাগারে বিষয় ভিত্তিক বইয়ের সংকট রয়েছে। পাঠাগারে পাঠ করার মতো বই নেই। শাহরিয়ার ইমন বলেন, জেলার স্বনাম ধন্য কলেজ এটি। কিন্তু দূরের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার জন্য কলেজের কোন যানবাহন না থাকায় দূর এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা আসতে পারেন। যথা সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মান সম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাসরিয়া হক তাজিন বলেন কলেজের নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী মিলে দশ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে তাদের জন্য মাত্র তিনটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। অবকাঠামো সংকটের কারণে দূরের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারেনা। ইশতিয়াক জুবায়ের বলেন কলেজের অডিটোরিয়াম খুব নি¤œ মানের। এখানে জায়গার সংকট প্রকট। কোন অনুষ্ঠান হলে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে থেকে অনুষ্ঠানে উপভোগ করেন। এছাড়া সাউন্ড সিস্টেম না থাকায় নি¤œ মানের মাইক ভাড়া করে এনে অনুষ্ঠান করতে হয়। মোহাম্মদ সোহাগ মিয়া বলেন কলেজের আউটডোর গেইম ও ইনডোর গেইম খেলার কোন ব্যবস্থা নেই। কলেজ ক্যাম্পাসের পাশে বিশাল খেলার মাঠটি শুধু মাত্র শুষ্ক মওসুমে ব্যবহার করা যায়। বাকী সময় এটি জলমগ্ন থাকে। মাহফুজ বিল্লাহ মুরাদ বলেন, কলেজে কোন ক্যান্টিন না থাকায় ক্যাম্পাসের আশপাশের খোলা দোকান থেকে খাবার কিনে খেতে হয় এ কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়। কলেজের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ওমর ফারুক বলেন, এই কলেজের ত্রিশ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারা সরকারি সুযোগ সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সকল ক্লাস করতে না পারায় মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাংলা,ইতিহাস,দর্শন, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, উদ্ভিদ, ইংরেজি, ব্যবস্থাপনাসহ ১৬ টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগে নিয়মিত ক্লাস করে ৭ হাজার শিক্ষার্থী। মাত্র ১৪ টি শ্রেণি কক্ষে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ক্লাস করে বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিদিন এসব বিভাগে ৫৬ টি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস হয় ২৭টি । কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক , ডিগ্রি (পাস), অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স মিলিয়ে ১০ হাজার ৭২০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য তিনটি পাকা ও একটি পুরোনো আমলের টিন শেডঘরে ১৪ টি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। ১০ টি বিষয়ে অনার্সের ক্লাস করার জন্য একটি করে শ্রেণি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। প্রতি বিষয়ে চার জন শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও গড়ে তিনজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এমনকি কোন কোন বিষয়ে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার্র্থীদের কলেজে আসা যাওয়ার জন্য কোন প্রকার যানবাহন না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েন। এছাড়া ছাত্রী মিলনাতনে একটি মাত্র শৌচাগার থাকায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে মেয়েরা শৌচকর্ম করে এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কলেজটিতে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে মোট ১০ হাজার ৭২০ জন শিক্ষার্র্থী রয়েছেন। নিয়মিত নির্ধারিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্র্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করে সময় কাটান। বহু পুরোনো জংধরা টিন শেডে সামান্য বৃষ্টি হলেও ক্লাসরুম গুলোতে বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী না থাকায় বেসকারি জনবল দিয়ে কলেজের কার্যক্রম কোনমতে পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, কলেজের বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতি না থাকায় হাওর এলাকার শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া ডেমনস্টেটর না থাকায় শিক্ষরা ডেমনস্টেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে যথাযথ ভাবে বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস গুলো নেয়া যাচ্ছে না। অর্থনীতি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ইফতেকার আলম বলেন, ভালো কলেজ হিসেবে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের খ্যাতি থাকায় হাওর এলাকার সকল শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। আসন সংখ্যার অধিক শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করতে আসে। কিন্তু অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম চালানো যায় না। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ মাজহারুল ইসলাম শ্রেণি কক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন নুতন ভবন নির্মাণ হয়ে শ্রেণি কক্ষ সংকট কিছুটা কমবে পুরো কলেজের শ্রেণী কক্ষ সংকট দূর করতে হলে আরও একটি ১০ তলা ভবণের নির্মাণ করতে হবে। কলেজে মঞ্জুরীকৃত শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬২টি তাদের কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন ৪৪ জন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর