সাকিব এই মাহমুদউল্লাহকেই দেখতে চান
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
দারুণ শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল তিন উইকেট। মাহমুদউল্লাহ উইকেটে গিয়েই প্রথম তিন বলে মারলেন তিনটি বাউন্ডারি! ব্যাটিংয়ের এই ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সাকিব আল হাসানের মতে, শুরুটা আগ্রাসী করতে পারলেই নিজের সেরাটা দেখাতে পারেন মাহমুদউল্লাহ।
দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটির পর লিটন দাস ও সৌম্য সরকার আউট হয়েছিলেন এক ওভারেই। পরের ওভারে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিমও। উড়তে থাকা বাংলাদেশ হুট করেই যেন থমকে যায় একটু। কিন্তু আগের ম্যাচের সেরা বোলার শেলডন কটরেলকে টানা তিন বাউন্ডারি মেরে মাহমুদউল্লাহ আবার বাংলাদেশের ইনিংস করেন গতিময়।
মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং আরেক প্রান্তে ভরসা জোগায় সাকিবকেও। দুজনকে আর থামানো যায়নি। পঞ্চম উইকেটে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন ৪২ বলে। ২৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন সাকিব, ২১ বলে ৪৩ রানে মাহমুদউল্লাহ।
ম্যাচ শেষে সাকিব বললেন, মাহমুদউল্লাহ অমন শুরু করেছিলেন বলে তার কাজটাও সহজ হয়ে গিয়েছিল।
“ওই সময় আমাদের দুইজনের একজনের উইকেট পড়ে যেত, আর পরের ব্যাটসম্য্না যদি আউট হয়ে যেত তাড়াতাড়ি, তাহলে এরকম রান আমাদের হতো না। একটা সময় যখন পরপর দুই উইকেট পড়ে গেল, আমি চিন্তা করেছি যে আবার ধস নামবে কিনা। ওই সময় আমাদের জুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
“রিয়াদ ভাইয়ের অনেক কৃতিত্ব, ওই সময়ে এসে চাপটা ওদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে, যেটা আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমার জন্য সহজ হয়ে গেছে, আমি চাপহীন ব্যাট করতে পেরেছি। রিয়াদ ভাই যেহেতু অনেক শট খেলছিল, তাই আমাদের জন্য ইনিংস গড়ে তোলাটা সহজ ছিল। আমার বেশি কাজ ছিল প্রান্ত বদল করা, আর মারার বল পেলে বাউন্ডারি মারা। আমার কাছে মনে হয়, রিয়াদ ভাইয়ের ব্যাটিং অনেক স্পেশাল ছিল।”
শট খেলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ ওই সময় আউট হলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠত অনেক। তবে এই ম্যাচ হোক বা যে কোনো সংস্করণে যে কোনো ম্যাচ, সাকিবের মতে, মাহমুদউল্লাহর ব্যাট করা উচিত এভাবেই।
“রিয়াদ ভাই তখনই ভালো করেন, যখন উনি এ রকম পজেটিভ ফ্রেম অব মাইন্ডে থাকেন। আমার ব্যক্তিগত ধারণা ভুল হতে পারে, ঠিকও হতে পারে। তবে কিছুকিছু সময় আছে, উনি ইনিংস গড়ে তোলার চেষ্টা করেন (আস্তে আস্তে)। আমার মনে হয় এটা ভুল কৌশল উনার। এই পথটাই (মেরে খেলা) ওঁর জন্য বেশি উপযুক্ত, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। এমনকি ওয়ানডেতেও।”
“কার্ডিফের ইনিংসটা যদি দেখেন, উনি কিন্তু কিন্তু সময় নেয়নি, উনিই প্রথমে আক্রমণ করেছিলেন। আমার কাছে মনে হয় ওঁর এই অ্যাপ্রোচ ছোট সংস্করণের জন্য অনেক ভাল। এমনকি টেস্টেও যদি প্রথমে মারতে পারেন, ওঁর শরীর চলা শুরু হয়ে যায়, পায়ের কাজ ভালো হয়ে যায়। সাধারণত এভাবে শুরু করতে পারলে ইনিংসটা উনি বড় করতে পারেন। আমি মনে করি ওঁর এটা ঠিক অ্যাপ্রোচ।”