March 31, 2026, 7:27 pm

সংবাদ শিরোনাম
ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬ ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিকল্প নেই পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ নষ্টের অভিযোগ এক-এগারোর ছায়া: বন্ধ দরজার ভেতর থেকে উঠে আসা নাম—মাসুদ রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ

চিলমারীতে শোকের ছায়া, না ফেরার দেশে চলে গেলেন শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ  কুড়িগ্রামের চিলমারীতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীরত্বের জন্য বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হওয়া  চিলমারী উপজেলা পরিষদের (৫ম) বারের মতো নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ  শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সফল সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সেই সাথে চিলমারী হারালেন একজন সফল অভিভাবক। ৭১’র এই সৈনিকের ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তার বীরত্বভূষণ নম্বর ১৭২। তিনি একজন সফল চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ব্যাক্তি এবং সফল পিতা ও অভিভাবক ও বটে। সোমবার ভোরে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন। শওকত আলী
 সরকার বীরবিক্রম একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তিনি বেশ কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে পাক বাহিনীকে পরাস্ত করে ছিলেন। ১১ নং সেক্টেরের অধিনে হাতিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। ৭১’মুক্তিযুদ্ধে যে ভাবে বাংলাদেশসহ এই বাঙ্গলীকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা করতে জীবনকে বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, ঠিক সে ভাবেই জনগনের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। যার আদর্শ নিয়ে এখনো দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হয়। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’র ৭ মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম ‘সৈয়দপুরে তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সৈনিকদের সঙ্গে পাক আর্মির বেলুচ রেজিমেন্টের সংঘাতের পর তৃতীয় বেঙ্গলের এক প্লাটুনের বেশি সেনা রকেট লাঞ্চার, এমএমজিসহ ভারি অস্ত্র নিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী হয়ে নদীপথে রৌমারী চলে আসেন। সেখানে সাদাকাত হোসেন ছক্কু মিয়া ও নুরুল ইসলাম পাপু মিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সুবেদার আলতাফের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রশিক্ষণ। তিনি, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এখান থেকে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেন। পাক বাহিনী মুক্তাঞ্চলের খবর জানতে পেরে ট্রেনে চিলমারী এসে শক্ত অবস্থা গড়ে তোলেন, সেই খবর শুনে তাদের সেই ডিফেন্স ভাঙ্গতে সুবেদার আলতাফের নেতৃত্বে চিলমারী আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল। দু’দিন পর পাকরা ব্রহ্মপুত্র নদ অতিক্রম করে কোদালকাটির ভেলাবাড়ী স্কুলে অবস্থান নিয়েছিলেন। মোহনগঞ্জে তাদের কিছু সহযোগী ছিল। আলতাফ সুবেদারের নেতৃত্বে তিনি শপথ নেন কিছুতেই পাক বাহিনীকে এগোতে দিবেন না। রাতে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। ৭ দিন ধরে চলে এ যুদ্ধ। যা ‘কোদালকাটির যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। পাক-বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। পরদিন যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে বহুজনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তারা। কুকুর সেগুলো নিয়ে টানাহেঁচড়া করছিল। শহীদ হন ২১ জন মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশ গ্রহন শেষে উলিপুর হাতিয়া অপারেশনে শওকত আলী বীরবিক্রম প্রাণে বেঁচে গেলে ও তিনি গুলিবৃদ্ধ হয়েছিলেন। দেশে স্বাধীনের পর তিনি রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে টানা ৫শ বারের মতো উপজেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়াও তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সফল সভাপতি হিসাবে ও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শত ব্যবস্থার মাঝের তিনি জনগনের সেবার পাশা-পাশা ছিলেন একজন সফল পিতা ও ৬ সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে ডাক্তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে প্রকৌশলী। স্ত্রী খালেদা খানম একজন গৃহীনী ও রতনগর্ভা মা। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, সোমবার ভোরে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেছেন। তার প্রথম জানাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং বিভিন্ন স্থানে জানাজা শেষে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় চিলমারী সরকারী কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ থাকার পর সর্বশেষ ২৮ জুলাই এয়ার এম্বুলেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মৃত্যু বরন করেন। তাঁর এই মৃত্যুতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন (এম পি), সাবেক এমপি গোলাম হাবিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান, আওয়ামী লীগের সকল সংগঠন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, চিলমারী প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব, প্রেসক্লাব চিলমারীসহ অনেকে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর