সুনামগঞ্জে ধষিতা মেয়েটির পাশে–বাংলাদেশ আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ ॥ ধর্ষণকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
রুজেল আহমদ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়সিদ্ধি গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা মেয়েকে দেখতে যান বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন(বাসক) এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা।
গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির সাথে একান্তে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোজঁ খবর নেন । পরে কর্তব্যরত ডাক্তারদের সাথে ও তিনি কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল হক, সহ সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী রাসেল,,প্রচার সম্পাদক সংবাদকর্মী কেএম শহীদুল ও স্বপন সরকার প্রমুখ।
এ ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্র মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে জেলা আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন(বাসক) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তাৎক্ষনিক হাসপাতালে নির্যাতিতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান এবং মেয়েটির চিকিৎসাসেবা প্রদান সহ সাবির্ক সহায়তা প্রদান এবং ধর্ষনকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবী জানান। খবরটি তাৎক্ষনিক মোহনা টিভির প্রতিনিধির সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ডাটাব্যাজ সংগ্রহ করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা রবিবার রাতভর উপজেলার পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়নের জয়সিদ্ধি গ্রামে ধর্ষণকারীদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ধর্ষনকারীরা পুলিশের আসার খবর পেয়ে পালিয়ে গেলে ও তাদের কিছু আত্মীয় স্বজনকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য থানায় আনা হয়। উল্লেখ্য গত ১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় জয়সিদ্ধি গ্রামের ওমান প্রবাসী সাইদুর রহমানের লম্পট ছেলে শিমুল মিয়া ও তার সহযোগি একই গ্রামের মিজাজ আলীর ছেলে মোঃ আতিক মিয়া বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটির ঘরে প্রবেশ করে তাকে মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষন করে। ঘটনার সময় মেয়েটির পিতা ঢাকার বিশ^ ইশতেয়াম থাকার কথা জানতে পেরে দুই লম্পট এমন ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটায়।
এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ধর্ষণকালে দুই লম্পটকে হাতেনাতে আটক করে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেয়া হয়। এদিকে মেয়েটিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় প্রধান ধর্ষনকারী শিমুল মিয়ার মা নাজমা বেগম ও তার চাচা তুরণ মিয়া মেয়েটিকে ঘটনার পরের দিন অর্থাঃ শনিবারে সকালে মেয়েটিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে ধর্ষনের ঘটনা গোপন রেখে পেটের ব্যাথার কথা বলে ভর্তি করানো হয়। পরে রবিবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহসহ মেয়েটিকে গাইনি ওয়ার্ডে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্ষনের ঘটনার আলামত প্রমাণিত হয়। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।