প্রিয় সহকর্মীগণঃ
প্রেস রিলিজ : আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখেই বলছি” করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় সমগ্র বিশ্ববাসী বর্তমানে সংকটাপন্ন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই করোনা ভাইরাস বর্তমানে বিশ্বের ১৯৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ছোঁয়াচে এ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার জন্য বিশেষজ্ঞরা যেসব মতামত প্রকাশ করেছেন তা আমরা কমবেশী অনেকেই অবগত রয়েছি। কিন্তু, আমরা সাংবাদিকতা নামীয় এমন একটি পেশায় নিয়োজিত রয়েছি যে, ইচ্ছে করলেও আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনা বা ঘরে বসে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, পেশাগত দায়িত্বের প্রতি যেমন আমরা শ্রদ্ধাশীল, তেমনি দেশ ও জাতির কল্যানার্থে মানবতার প্রতি আমরা দায়বদ্ধ। তাই, যেকোন প্রতিকুল পরিবেশের মাঝে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পেশাগত দায়িত্ব পালণের ক্ষেত্রে কমবেশী অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।বর্তমান সময়ে আমাদেরকে এমন একটি পরিস্থিতির মাঝে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যে পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের কোনও অতীতের অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়াও, আমাদের কর্মএলাকা বহির বিশ্ব থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর তথা জেলা ও উপজেলা গুলোতে। সেই সুবাদে প্রবাসীদের সংস্পর্শ সহ দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে হয় আমাদের তাই ঝুঁকিটাও অনের বেশি। যে কারণে বর্তমানে আমরা স্মরণকালের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে দায়িত্ব পালন করছি। এটা যেকোন সময় আমদের যে কারও নিজের জীবন যেমন বিপন্ন হবার কারণ হতে পারে, তেমনি পরিবার এবং সমাজও হতে পারে বিপদাপন্ন।তাই, বর্তমান পরিস্থিতির মাঝে দায়িত্ব পালনের সময় আমাদেরকে অবশ্যই প্রথমে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) একেবারেই সহজলভ্য নয়। বিধায়, আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে আত্নরক্ষার্থে যতটুকু সম্ভব সুরক্ষা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও, সম্ভব হলে অতীব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজন ছাড়া স্বশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি না হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দায়িত্ব পালণের পাশাপাশি আমাদের পরিবেশিত কোন তথ্য যাতে শতভাগ বস্তুনিষ্ট হয় সেদিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশিত হলে, তা হবে করোনা ভাইরাসের মতোই ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক। এখন তথ্য প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে ঘরে কিংবা অফিসে বসেও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা প্রচার করাও সম্ভব। আমাদের নিজেকে বাঁচাতে এবং মানুষকে বাঁচানোর জন্য সচেতনতা সৃষ্টির মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, এখনও আমরা সাংবাদিকরাই মানুষের কাছে সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে রয়েছি। করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় আমাদেরকে হতে হবে রাষ্ট্রের সত্যিকারের দর্পণ।নিজের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সুরক্ষার উপর’ই অনেকক্ষেত্রে নির্ভর করবে নিজ পরিবারের পরিবারের সুরক্ষা। করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় এখনও প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ছাড়া বিকল্প তেমন কিছু নেই। মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধে মানুষই জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ্, একদিন অবশ্যই করোনা ভাইরাস পরাস্ত হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, সারাক্ষণ, প্রতিদিন-আমৃত্য পর্যন্ত। আল্লাহ্পাক আমাদের সবাইকে হেফাজত দান করুন।
মোঃ রুহুল আমীন খন্দকার, নির্বাহী সম্পাদক ও ব্যুরো প্রধান’ প্রাইভেট ডিটেকটিভ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩০ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল