April 6, 2026, 10:14 pm

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

সুন্দরগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগে বাণিজ্য

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

mostbet

প্রতিকি ছবি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বোলজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতির আনীত অভিযোগ নিয়ে চলছে বাণিজ্য।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বিদ্যালয়ের ৫’শ ৪ জনের স্থলে ৪’শ ৮৫ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। অপর ২৯ জন শিক্ষার্খীর নামে বরাদ্দকৃত উপবৃদ্ধির অর্থ প্রধান শিক্ষক নিজেই ২৯টি মোবাইল সীমের মাধ্যমে গ্রহণ পূর্বক আত্মসাৎ করে আসছেন। এছাড়া সর্বশেষ স্লীপের  জন্য বরাদ্দকৃত ৭০ হাজার, ওয়াশব্লকের ২০ হাজার, রুটিন মেইনটেইনের ৪০ হাজার, প্রাক-প্রাধমিকের (শিশু শ্রেণির) ১০ হাজার, খেলনা বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ স্থানীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অন্যান্য সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। মর্মে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মহসিন আলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমসহ অপর ৩জন উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের ভার অর্পণ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ। এতে অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ভিন্ন ভিন্ন অপকৌশলে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় অভিযোগকারী কর্তৃক তার দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। এনিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক, সুভাকাক্সক্ষীসহ স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ফলে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। এ ব্যাপারে স্থানঅীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ স্বেচ্ছারিতার অভিযোগ উত্থাপন হওয়ায় অভিযোগকারিকে তিন দফায় ২ লাখ ৮০ হাজার, সভাপতিসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কমিটি, সংশ্লিষ্ট ও উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষ, কয়েকজন নামধারী ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে প্রধান শিক্ষক এ পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা খরচ করেছেন। অভিযোগ দায়ের করে অভিযোগকারিসহ অন্যান্য সকলের অভিযোগ বাণিজ্যকে চাঁদাবাজির সামিল আখ্যা দিয়ে স্থানীয়রা এ অভিযোগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। এসব বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে না পেয়ে তাঁর মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান (উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার) জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, গত বুধবার (২৮জানুয়ারি) অভিযোগকারি তার অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। মর্মে তদন্ত কাজ স্থগিত রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ জানান, প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মহসীর আলীর দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমসহ সকল সহকারি শিক্ষা অফিসারগণকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যান্যরা হলেন- আশিকুর রহমান, রিপন আলী ও বিপ্লব হাসান মদিনা (পর্যায়ক্রমে)। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আসেনি।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩০ জানুয়ারি ২০২০/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর