April 6, 2026, 8:52 pm

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি হিন্দু মহাজোটের

সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি হিন্দু মহাজোটের

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় বহু হিন্দু পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার চিত্র প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। এসময় আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানায় বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট। সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী ২০১৭ সালে সারা দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ‘নির্যাতনের’ পরিসংখ্যান তুলে ধরে এ দাবি জানান তারা। এতে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবারই নির্বাচনের আগে ও পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন বাড়ে। বিগত বছরে নির্যাতন কিছুটা কমে এলেও হিন্দুরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নির্বাচনের আগে আমরা এই নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানাই। সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সময়ে ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও দেশান্তরে বাধ্য করা, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর, গুজবে উসকানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমালের ওপর হামলা বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন তিনি। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে প্রভাস অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মূল লক্ষ্য ছিল, হিন্দুদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা। প্রশাসনের অবহেলায়, প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই অংশটি সংখ্যালঘুদের সমূলে বিনাশ করতে চায়। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে হিন্দু মহাজোট নেতারা জানান, জোটের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য-প্রতিবেদনের আলোকে তারা এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন। পরিসংখ্যানে জানানো হয়, ২০১৭ সালে হত্যা ও লাশ উদ্ধার হয়েছে ১০৭টি, ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৮। গত বছর হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে ৭৭৫ জনকে, নিখোঁজ হয়েছেন ৩১ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ২০১৬ সালে এই নিখোঁজে সংখ্যা ছিল ২২, হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ৪৬৬ জনকে। দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে ১৭২ জনকে, দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়েছে ৬১০ জনকে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২০৯। ধর্ষণ করা হয়েছে ২৫ জনকে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে ২৩ জনকে, ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬। ২০১৭ সালে মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে ২৩৫টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩৮। ভীতি প্রদর্শন, পূজা বন্ধের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা, মারধর, চুরি, চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ১১টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৭১৬টি। লুট, হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে ৪৬৫টি। হামলা ও নির্যাতনে হিন্দুদের ছয় হাজার ৪৭৪টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল দ্ইু হাজার ৩১৮। হিন্দু মহাজোট সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, অনেক নির্যাতন, নিপীড়নের ঘটনা আমাদের প্রতিনিধিরা জানতে পারেননি। প্রভাবশালীদের ভয়ে মামলা-মোকাদ্দমা থেকে অনেকে বিরত রয়েছেন। সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় অনেকে ধর্ষণের কথা চেপে যান। সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র আরো ভয়াবহ। হিন্দুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নির্যাতনের মাত্রা এমনভাবে বাড়ছে, মনে হয় হিন্দুরা এই দেশেরই নাগরিক নন। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গঠনের লক্ষ্যে দেশের সব মানুষের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর