এ এস এম রিজোয়ান নোয়াখালী থেকেঃ
নোয়াখালী জেলার অতি প্রাচীন শিক্ষা বিদ্যাপিঠ ‘ বেগমগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ’ ১৬২ বছর পূর্তিতে দিন ব্যাপি কর্মসূচির মাধ্যমে আনন্দ মূখর একদিন উদযাপন করা হয়।গত ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১ ঘটিকার সময় বিদ্যালয় মাঠে অ্যালামনাই ‘ এসোসিয়েশনের উদ্যেগে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের এক মিলন মেলা-২০১৯ আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কার্যকরী সভাপতি সুভাস চন্দ্র শীল। শুরুতে অতিথীদের আসন গ্রহন ও পুষ্পমাল্যের মাধ্যমে বরন করে নেওয়া হয়। পরে নোয়াখালী -২ আসনের এমপি ও আর টিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মিলন মেলার আনুষ্ঠানিকতা মূল কার্যক্রম শুরু করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নোয়াখালী -৩ আসনের এম.পি- মোঃ মামুনুর রশিদ কিরন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ এ বি এম জাফর উল্যাহ, অতিরীক্ত পুলিশ সুপার বেগমগঞ্জ সার্কেল মোঃ শাহজাহান শেখ পি পি এম। উপজেলা চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা। বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ হারুন অর রশিদ চৌধুরী। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশরাফ খান, বেগমগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বিপক রঞ্জন পাল, উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান নুর হোসেন মাসুদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী “ এসোসিয়েশনের ” সাধারন সম্পাদক শিক্ষক মুহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি , নৃত্য, বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিচারনের মাধ্যমে দিনটি উৎযাপিত হয়। বিদ্যালয় ২০১৮ বর্ষের এস এস সিতে জি পি এ- ৫ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে ক্রেষ্ট বিতরন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা ও মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল চৌমুহনী পৌরসভা। স্থানীয় বিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিল্পী সাবেরা সুলতানা মুন্নি ও শিক্ষক ফিরোজ আলমের পরিচালনায় এক মনোঙ্গ সাংস্কৃতি সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহবায়ক মোরশেদুল আমিন ফয়সাল এর পরিচালনায় শিল্পী এফ এ সুমন, ক্লোজআপ তারকা বিউটি, গামছা পলাশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থানীয় ও ষ্টোন ব্যান্ডদল এর পরিবেশনায় ব্যান্ড-শো অনুষ্ঠিত হয়।এ ছাড়া ও ১৯৫৪ ব্যাচের মোঃ নুর নবী ও ১৫৬ ব্যাচের ডাক্তার ফজলুল হক খান সাবেক উপ-পরিচালক স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ কয়েকজন প্রবীন সাদা মনের মানুষকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় এসোসিয়েশন কর্তৃক। এই প্রাচীন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা অর্জনকারী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রায় দেড় শত মুক্তিযোদ্ধার সম্মুখে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে ছালেহ আহম্মদ মজুমদার, নাসির উদ্দিন, জগেন্দ্র কুমার শুর, গুলজার হোসেন, লিয়াকত আলী আকন্দ, ফয়েজ আহম্মদ, আব্দুর রাজ্জাক সহ অনেক শহীদ হন। ১৮১২ সালে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করে, বর্তমানের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানা যায় শত সমস্যার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের বাস ভবন নেই। বিজ্ঞানাগার নেই , ছাত্রাবাস নেই, একমাত্র মসজিদটি জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই নতুন করে মসজিদ নির্মান করা প্রয়োজন। মিলন মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই সমস্যাবলী সমুহ দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৬ ডিসেম্বর ২০১৯/ইকবাল