গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি

মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণের জন্য ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েক সহস্রাধিক জনগণের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এলাকাবাসী স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, সিলেটের প্রাচীনতম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজার থেকে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব প্রদান করা হয়। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাধীন বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগমে এই বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হয়ে থাকে। যার কারণে ব্যবসা প্রসিদ্ধ এই বাজারে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৭টি শাখাসহ বীমা অফিসের শাখা, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা প্রেসক্লাব ভবন, সরকারি ডাকঘর, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, চক্ষু হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডাক্তারের চেম্বার, ঔষধের দোকান, মহিলা ডিগ্রী কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফাজিল (প্রস্তাবিত কামিল) মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, টেলিফোন টাওয়ার, গণপাঠাগার, কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ও থানা ভবন গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত। কিন্তু এলাকার সচেতন মহলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে গোয়ালাবাজারকে পৌরসভা ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিগত ১৯৯৮ সনে তৎকালীন সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত গোয়ালাবাজারের এক জনসভায় অতিসত্বর ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ২০০০ সনের জুনে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব স্বাক্ষরিত প্রেরিত পত্রের মাধ্যমেও পৌরসভা বাস্তবায়নের ব্যাপারে এলাকাবাসীকে আশ্বস্থ করা হয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও আলোর মুখ দেখেনি। এতে এলাকার মানুষের মনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে জরুরী ভিত্তিতে ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী লাল মাহমুদ, পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতা শাহ নুরুর রহমান শানুর, প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মুহিদুল ইসলাম লাল মিয়া, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা আব্দুল কুদ্দুছ শেখ, ব্যবসায়ী আনহার আহমদ, গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল লেইছ, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউর রহমান, বিএনপি নেতা আবদুল জলিল জিলু, প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিলু মিয়া, বেলাল আহমদ, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী আনহার মিয়া, ফয়জুল হক, বশির মিয়া প্রমুখ।