April 13, 2026, 8:14 am

সংবাদ শিরোনাম
রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ

শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলমান: শিক্ষক কর্মবিরতি চলছে

মনিরুজ্জামান সুমন,ঝিনাইদহ থেকে :

mostbet

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মবিরতি চলছেই। পরিক্ষাহলে কর্তব্যরত শিক্ষকের ডিউটি বিহীন হযবরল পরিবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেজায় খুশি হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ। এ বছর স্কুলটির সঠিক মেধাযাচাই নিয়ে শঙ্কিত সবাই, সচেতন মহলের ধারনা অনেক দূর্বল শিক্ষার্থীরা অসাদুপায় অবলম্বন করে বার্ষিক পরিক্ষায় ভাল ফলাফলের পাশাপাশি প্রকৃত মেধাবীরা পিছিয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন দাবিদাবা নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষকের কর্মবিরতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দারের অপসারন ছাড়া আর শ্রেণী কক্ষে ফিরবেন না বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শৈলকুপা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৩ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। ৬ষ্ঠ, সপ্তম এবং নবম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫৬ জন। শনিবার পরীক্ষা চলাকালিন কোন রুমে প্রধান শিক্ষক, কোন রুমে কর্মচারী আবার কোন রুমে শিক্ষক ছাড়াই বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান সহ ২৭ জন শিক্ষক কর্মচারী বসে আছে কর্মবিরতীতে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে গত ১৫ নভেম্বর থেকে এ কর্মবিরতী চলছে বলে শিক্ষকরা জানান। আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপর বিভিন্ন নি’র্যাতন চালিয়ে আসছে। প্রধান শিক্ষক একাধিক শিক্ষকের নামে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনে ভূয়া নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের ও একজন কর্মচারীকে পিটিয়ে হাসাপাতালে পাঠানোর প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। নবম ও দশম শ্রেনীর বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা সুচরিতা রানী জানান, তাদের এক দফার এক দাবী প্রধান শিক্ষক অপসারন না হওয়া পর্যন্ত তারা আর পরীক্ষা সহ কোন কর্যক্রমে অংশ নিবেন না। কর্মচারী আবুল কালাম জানান, প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অফিসের কোন কাজে অংশ নিবেন না তারা। বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক আলী নুর সহ অধিকাংশ শিক্ষকের একই দাবি বলে তারা জানান। শিক্ষকরা জানান প্রতি ১৬ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক বরাদ্দ থাকার কথা পরীক্ষার রুমে। বশির উদ্দিন ল্যাব এসিসটেন্ট তিনি একটি কক্ষে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার রুমে ৪৮জন নবম, সপ্তম ও ৬ষ্ঠ শ্রেনীর পরীক্ষার্থী রয়েছে। তিনি জানান এর আগে তাকে এ দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। শিক্ষকরা কর্মবিরতীতে তাই তিনি পরীক্ষার ডিউটি করছেন।বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাসুদুর রহমান জানান, শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন নারী নির্যাতন আইনের মামলা, অর্থআত্মসাতসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ববিবাদ শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির ৬ জন সদস্যকে মূল্যায়ন করেন না, কোন মিটিংএ ডাকেন না। আদ্যবধি এককভাবে শুধুমাত্র সভাপতিকে ম্যানেজ করেই বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছেন বলেই আজ বিদ্যালয়টির করুনদশা।
পরীক্ষার মধ্যে শিক্ষকদের কর্মবিরতি নিয়ে প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দার বলেন, কিছু শিক্ষক বে-আইনি ভাবে কর্মবিরতি পালন করছে। এ কারনে তিনি পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার পরীক্ষা নিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান। তিনি বিষয়টি স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে জানিয়েছেন। তার বিরদ্ধে শিক্ষকদের যে অভিযোগ ছিল তা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। কর্মচারীকে মারপিঠের ঘটনাটি তিনি অস্বিকার করেছেন। পরীক্ষার সময় শিক্ষদের অসহযোগীতার বিষয়টি তিনি সব মহলকে অবহিত করেছেন। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন সব শাখার শিক্ষক তো কর্মবিরতী পালন করছে না অন্য শাখার শিক্ষক দিয়ে তিনি খাতা মূল্যায়ন করবেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বিদুৎসাহী সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান ইকু জানান, ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পর থেকে অদ্যবধি কোনো মিটিং হয়নি। প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারীতার কারনেই ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কমিটির ৬ সদস্য ও শিক্ষক কর্মচারীসহ ২৭জন একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের কথা বললেও তিনি কর্নপাত করেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামীম খান জানান, পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষা হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। স্কুলটির অভ্যান্তরিন দ্বন্দের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অবগত করা হয়েছে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩০ নভেম্বর ২০১৯/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর