April 6, 2026, 5:37 pm

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ধারণ ক্ষমতার ৫ গুণ বেশি বন্দি কক্সবাজার জেলা কারাগারে

ধারণ ক্ষমতার ৫ গুণ বেশি বন্দি কক্সবাজার জেলা কারাগারে

তবুও কারা কতৃপক্ষের নানা উদ্যোগে আলোর পথে ফিরছে হাজতীরা

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার


কক্সবাজার কারাগারকে পাঠশালায় রূপ দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। আসামি-কয়েদিদের প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে তোলা হচ্ছে। আর কারা অভ্যন্তরে শিশুদের ডে-কেয়ারে (পরিচর্যা) যতেত্ন নজর রাখা হচ্ছে। নানা অপরাধ ও অভিযোগে আটক কক্সবাজার কারাগারে বন্দি প্রায় তিন হাজার বেশি আসামি ও কয়েদি ফেলে আসা অতীতের সব উচ্ছৃঙ্খল পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরিয়ে আসবে। এরা সমাজ ও দেশের বোঝা হবে না, কারামুক্ত হলে তারা হবে পরিবার ও দেশের সম্পদ। এজন্যই কারাভ্যন্তরে ওইসব হাজতি কয়েদিকে প্রশিক্ষিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন, কৃষিসহ নানা প্রশিক্ষণ ও জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকান্ড।
বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্ধারিত দন্ডে কারাভোগ শেষে বের হয়ে তাদের পুনরায় অপরাধে আর আগ্রহ সৃষ্টি হবে না। কারও উস্কানি আমলে আসবে না ওদের। লুকিয়ে থাকতে হবে না এলাকায়। ওইসব বন্দির জন্য জেলহাজত থেকে মুক্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থাও হাতে নিয়েছে কক্সবাজার জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার কারাগারের খোঁজখবর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।
সূত্র জানায়, ওই কারাগারে শিশুদের বিনোদনের জন্য ইতিমধ্যে  নির্মিত হয়েছে নান্দনিক পার্ক।  মায়ের অপরাধে বিনা কারণে কোলে করে নিয়ে আসা এবং জেলে থাকা ওইসব শিশুর জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার (পরিচর্যা) সেন্টার। দু’জন শিক্ষক রোজ তাদের প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দিয়ে চলছেন। সেখানকার জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ এসব বিষয় সার্বিক তদারকি করছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিদের্শনায় নবাগত জেলার শাহাদত ও ডেপুটি জেলার অর্পণ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে অভ্যন্তরীণভাবে যে ব্যক্তি যে কাজে পারদর্শী তাকে সে কাজে নিযুক্ত করেছেন। জামিনে মুক্ত হয়ে সম্প্রতি জেল ফেরত কয়েক ব্যক্তি কারাগারের ভেতর দেয়া ওই সব শিক্ষা তাদের ভবিষ্যত কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বর্তমান জেল সুপার যোগদানের পর থেকে কারাগারের সব বন্দি রয়েছেন স্বস্তিতে। প্রতিদিন কারা অভ্যন্তর নবসমাজে পাল্টাছে তার চিত্র। মশা নিধনের জন্য কেনা হয়েছে অত্যাধুনিক ফগার মেশিন। সেখানকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধর্মীয় শিক্ষা, গণশিক্ষা, বৈদ্যুতিক শিক্ষা, সেলাই কাজ, হস্ত শিল্প ও সবুজ-শ্যামল কারাগারটির ভেতরের সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। কারাগারে ধারণক্ষমতার বিপরীতে জনবল বরাদ্ধ থাকে,সে অনুপাতে ৫৩০ জন বন্দির ধারণ ক্ষমতাসমপন্ন এই কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রায় তিন হাজার ১১৬ আসামি ও কয়েদি তার মধ্যে রোহিঙ্গা হাজতী রয়েছে প্রায় ২০জন।
জেল সুপার মোহাম্মদ বজলুর রশিদ আখন্দ জানান, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে এই কারাগারে বন্দিদের সকলে যেমন ভাল রয়েছেন, অনুরূপভাবে তাদের অসুবিধাও প্রকট। কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা সত্বেও ধারণ ক্ষমতার ৫ গুণ বেশি বন্দি থাকা এই সব হাজতি কয়েদিদের উপযুক্ত সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ বর্তমানে এই কারাগারটিতে স্থায়ী কোন চিকিৎসক নেই। একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও   প্রয়োজন আরো একজন। ডেপুটি জেলার একজন থাকলেও প্রয়োজন আরো একজনের। প্রধান কারারক্ষীর একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কারারক্ষী মহিলা সহ ৭৯ জন থাকলেও ১০০ জন কারারক্ষীও আটক এতগুলো বন্দিকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সমপ্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে কক্সবাজার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা কয়েজন কক্সবাজার আদালতে জানান, বর্তমান জেল সুপার মোহাম্মদ বজলুর রশিদ আখন্দ এই কারাগারে যোগদানের পর থেকে সেখানকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় বন্দি সকলেই খাবার ও থাকা নিয়ে ভাল থাকলেও, কষ্ট পোহাচ্ছেন বাথরুম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি নিয়ে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দির কারণেই এই অবস্থা ক্রমশ প্রকট আকার নিচ্ছে বলে তাদের অভিমত।
এদিকে জামিনে আসা বেশ কয়েকজন আসামী সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কক্সবজার জেলা কারাগারের পরিবেশ এমন ভাবে চলছে যেখানে নানা জাতে শাক-সবজি পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। যার অন্যতম কারন কয়েদী আর কারা কতৃপক্ষের দৃঢ় সম্পর্ক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী কয়েদী এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান জেল সুপার আসার পর ছোট থেকে বড় হয়েছে রান্নার শেড,বসানো প্রতিটি ওয়ার্ডে এক হাজার লিটার এর পানির ট্যাংক,শিশুদের জন্য পার্ক নানা ধরনের খেলনা রাখা হয়েছে,যার কারনে কারাগারের ভেতর যেন একটি পরিপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো.আলী হোসেন জানান,কারা কতৃপক্ষের জনকল্যাণ মূলক উদ্দ্যোগ হাজতীদের জীবনে কাজে আসবে।
তাদের সংশোধিত জীবনে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখাবে আলোর পথ।

mostbet

চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার জেলা কারাগারে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক, তিনি পরিদর্শন কালে কক্সবাজার জেলা কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানসম্মত পরিবেশ দেখে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন এবং তাকে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর