কক্সবাজার প্রতিনিধি :
অভিযুক্তদের সাথে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগকারীর দোকানের সামনের নালার স্লাব ভেংগে দিলো এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী এক রোহিঙ্গা নারী দোকানীর। এসময় এমন কাজে প্রতিবাদ করায় উল্টো ভুক্তভোগী নারী ও ভাইকে চর থাপ্পড় ও ধাক্কা দেয়।
গত সোমবার (৫মে) রাত ৮ টার সময় টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া মুচনী রেজিস্ট্র্যাড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই ব্লকের ঘটনা এটি।
জানা যায়, ক্যাম্পের ই ব্লকের বাড়ির সামনেই দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করেন রোহিঙ্গা নারী সাজেদা বেগম। তৎকালীন সময়ের ক্যাম্প ইনচার্জের মৌখিক অনুমতি নিয়ে এই দোকানের আশেপাশে আরো ৪/৫ টা দোকান রয়েছে। দোকানের সামনে রয়েছে নালা-নর্দমা।এই নালার উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক শিশু, নারী ও বয়সী লোকজন হুঁচট খেয়ে আহত হয়। তাই কয়েক বছর আগে সেই নালার উপর স্লাব বসিয়ে দিয়েছে দোকানদারেরা। যার ফলে দূর্ঘটনা রোধ করা সহজ হয়েছে।
সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি অপরাধ ও চাঁদাবাজ চক্র গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন দোকানদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করে চলেছে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই দোকানে হামলা, ভাংচুর ও দোকান উঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আর এসব চক্রের সাথে যেমন রয়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর সাথে সখ্যতা,তেমনি এই চক্র গুলো সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের সাথে। এতে করে ক্যাম্পে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে ওরা। এই ধরনের একটি চক্রের সদস্য হচ্ছে ই ব্লকের মোহাম্মদ হারুনের ছেলে আনোয়ার সাদেক, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ শাহ, মৃত হামিদ ও ক্যাম্প ব্যবস্হপনা কমিটির নারী সদস্য আছিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নূর, ডি ব্লকের নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলম। এই চক্রটি বাজারের ইজারাদারের মত চাঁদা আদায় করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ব্যবস্হা নিচ্ছে না। এদের অত্যাচারে ভুক্তভোগী কেউ ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দিলে উল্টো বাদীর উপর হামলা, দোকান ভাংচুর ও প্রশাসনিক হয়রানি হতে হচ্ছে। যার কারণে অনেকে মুখ খুলে না তাদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে দোকানদার সাজেদা বেগমের কাছ থেকে ৫ শ টাকা চাঁদা দাবি করে আনোয়ার সাদেক। এতে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালানো হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রবিবার ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম। এ ঘটনার তদন্তভার পড়ে ১৬ এপিবিএন এর নয়াপাড়া ক্যম্পের পুলিশ কর্মকর্তা শাহিন’র উপর। তিনি সোমবার রাত ৮ টার সময় অভিযুক্ত রোহিঙ্গা চক্রটিকে সাথে নিয়ে তদন্তের অজুহাতে ঘটনা স্হলে গিয়ে সাজেদা বেগমের দোকানের সামনের নালার স্লাব পানি চলাচলে নিঘ্ন হওয়ার কথা বলে ভেংগে দেয়। দোকান করতে দেবে না এমন হুমকিও দেয়। অথচ পাশাপাশি মোহাম্মদ নূর ও খলিফা এনামের দোকানের স্লাব ঠিকই রয়েছে।
স্লাব ভাংচুরে বাধা ও প্রতিবাদ করায় দোকানের সহকারী ও সাজেদা বেগমের ভাই নেজাম উদ্দিনকে ধাক্কা দেয় এবং চর মারে।এতে সাজেদা বেগম এগিয়ে আসলে তাকেও চর মারে পুলিশ সদস্য শাহিন এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম ও নেজাম উদ্দিন।
এ বিষয়ে ১৬ এপিবিএন এর সদস্য পুলিশ কর্তা শাহিন বলেন,”অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাজার কমিটির নেতা আনোয়ার সাদেক নালা নর্দমায় পানি চলাচলে বাধা অপসারণ করার জন্য স্লাব সরিয়ে নিয়েছে। এখানে আমি বা পুলিশ কাউকে ধাক্কা বা চর মারেনি। ”
তবে ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবর তদন্ত রিপোর্ট না দিয়ে অভিযুক্তদের সাথে নিয়ে কেন স্লাব সরিয়ে দেওয়া বা বাজার কমিটির নামে চাঁদা আদায়ে ব্যবস্হা গ্রহণের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি ওই পুলিশ কর্তা শাহিন।