মিঠাপুকুর প্রতিনিধি ঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের অবস্থিত বুজর্গ সন্তোষপুর কারামতিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একে এম এ মোন এম সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
২০১১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একের পর এক তিনি মনগড়া সিদ্ধান্ত, অদূরদর্শিতা ও নানা অনিয়মের কারণে এ অভিযোগ ওঠেছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেন বালুয়া মাসিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউ পি চেয়ারম্যান একাধিকবার নোটিশের মাধ্যমে অভিহিত করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য বলেন। অধ্যক্ষ তা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্নস্থানে জানা যায়, অধ্যক্ষ এ কে এম এন মোন এম সরকারের মন গড়া ভাবে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তাদেরকে বিভিন্ন সময় মিটিংয়ে কোনো শিক্ষক তার মতের বিপরীতে কোনো কথা বললে তাকে মিটিং শেষে নিজের রুমে একলা ডেকে নিয়ে ধমক দেন এবং তাকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করেন।
শিক্ষকদের বেতন স্কেল পরিবর্তন ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দিতে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করেন এবং এসব কাজের জন্য শিক্ষকদের নিকট থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করেন। মাদ্রাসায় জেডিসি, দাখিল ও আলিমনও ফাজিল পরীক্ষার কেন্দ্র খরচের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে এবং মাদ্রাসার আয় থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়াও মাদ্রাসার প্রায় ২২ বিঘা জমি পরিবর্তে ১৬ বিঘা জমি লিজ প্রদান করে যা আয় হয় তাও আবার নয়/ ছয় হিসাব দেখিয়ে আত্নসাৎ করার ও অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অবশিষ্ট ৬ বিঘা জমি নিজ আত্নীয় স্বজনদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়ার ও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে
শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে তাদের নাম, পদবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি সংশোধনের কথা বলে একাধিকবার প্রায় লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো কাজই তিনি করেননি। মিনিস্ট্রি অডিটের সময় শিক্ষকদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মাদ্রাসার টাকায় কেনা বিভিন্ন আসবাবপত্র নিজের বাসায় নিয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানায়, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বসা হয়েছিলো সমাধানের লক্ষ্যে , এবং অধ্যক্ষ এবিষয়ে টাইমপিটিশন করে টাইম নিয়েছে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে পরে কথা হবে বলে সংযোগ কেটে দেন।
লিখিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিকাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।