April 7, 2026, 5:04 pm

mostbet
সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

যশোরে জীবিত থেকেও মৃত সাংবাদিক!

ইয়ানূর রহমান :
শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান ২০০৮ সালের ২১ মে জাতীয় পরিচয়পত্র পান। এরপর তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিক ব্যাংকে একাউন্ট খুলেছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির লাইসেন্সও করেছেন। সম্প্রতি  কোভিডের টিকার জন্যে নিবন্ধন করতে যেয়ে জানতে পারেন ১১ বছর আগে তিনি মারা গেছেন। নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ২০০৯ সাল থেকে তিনি মৃত।  যে সময় থেকে তাকে মৃত দেখানো হচ্ছে সে সময়ে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক যশোর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক স্পন্দনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন।
তার পিতার নাম আলমগীর কবীর এবং মাতার নাম হামিদা খাতুন। তার কাছে থাকা বর্তমানের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১০ জুন ১৯৮১ সালে জন্ম। কার্ড নং-৪১১৯০১৩৬৪৪০০১।
দীর্ঘ ১২ বছর প্রয়োজনীয় সকল কাজে এনআইডি নম্বর ব্যবহার করলেও তার কোন সমস্যা হয়নি। কোভিডের টিকা পাওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন। প্রথম দফার টিকার রেজিস্ট্রেশনে ব্যর্থ হলে সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতা মনে করে বাদ রাখেন। দ্বিতীয় দফার টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে বলা হয় ‘এ নাম্বারে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ ভিন্ন  ভিন্ন কম্পিউটার থেকে চেষ্টার পরে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন অফিসের দারস্থ হন। সেখান থেকে জানানো হয় ২০০৯ সালে এ ব্যক্তি মারা গেছেন।
হাবিবুর রহমান জানান, ‘কে ভুল করেছে কিভাবে ভুল হয়েছে সেটার চেয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ আমাকে প্রমাণ করতে  হবে আমি জীবিত।’ বেঁচে থেকেও জীবিত প্রমাণ করার মত কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।
জেলা নির্বাচন অফিসের একটি সূত্রের দাবি- ২০০৯ সালে ভোটার হালনাগাদ করার সময় মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী হয়তো ভুল করেছেন। নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার সময় হয়তো ওই কর্মী জীবিত/মৃত কলাম ভুলভাবে পূরণ করেছেন এবং  সেটা সার্ভারে সংরক্ষিত হয়েছে। এরপর কোনো কাজে হয়তো এনআইডি কার্ড যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়েনি। যার কারণে এতোদিন এই ভুল ধরা পড়েনি।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, কিছু সমস্যা কোথাও কোথাও হতে পারে। এখন ওই ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের ‘জীবিত মর্মে’ প্রত্যয়নসহ উপজেলা নির্বাচন অফিসে একটি আবেদন করবেন।  নির্বাচন অফিস একটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জাতীয় পরিচয়পত্র অধিদফতরে জমা দিলে কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেঁচে থেকেও অফিসিয়াল মৃত ব্যক্তি যশোরের হাবিবুর রহমান একা নন। চৌগাছার মুক্তদহ গ্রামের মুদি দোকানদার হাফিজুর রহমান, আব্দুল জলিল ও গৃহিণী মর্জিনা বেগমও ‘মৃত জীবনযাপন’ করছেন। এর বাইরেও যে কেউ নেই তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর