যশোর থেকেএনামুলহকঃ

যশোরে আরও একশ ৩৪টি বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে বাড়ছে আইসোলেশন ওয়ার্ডের পরিধিও। এসব পরিকল্পনার মধ্যেই যশোরে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মোট ১৫ জন মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে যশোর করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় করোনা রোগীর চাপ সামলানো ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একশ’ ৩৪টি বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়বে ৩৪টি এবং শহরের ছয়টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে বাড়বে আরও একশ’টি। সবগুলোই করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার পর যশোর সার্কিট হাউজে বসে জরুরি সভা। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনি খান পলাশ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বিশ্বাস প্রমুখ।
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, বেসরকারি জনতা হাসপাতালের ৩০টি, ইবনেসিনার ২০টি, নোভা মেডিকেল সেন্টারের ১৫টি, জেনেসিস হাসপাতালের ১৫টি এবং আধুনিক ও কুইন্স হাসপাতালের ২০টি মোট একশ’টি বেড করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর আগেই যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলার পুরুষ পেয়িং ওয়ার্ডের ৩৪ বেড করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগের ফলে আক্রান্ত রোগীদের বেডের অভাব লাঘব করা যাবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
নতুন এসব বেড সম্পর্কে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান বলেন, যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে আমরা বেড সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা করছি। আজকে নতুন আরও ৩৪টি বেড বাড়ানোর কারণে বর্তমানে রেডজোন, আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট), এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেনসিভ ইউনিট) মিলে মোট বেড সংখ্যা হলো ১৫২টি। আইসিইউতে ১১টি বেড, যার সব ক’টিই এখন রোগীতে পূর্ণ। এইচডিইউতে এই মুহূর্তে নয়টি বেড আছে, সব ক’টিতেই রোগী রয়েছেন। এইচডিইউতে আরও ১১টি বেড সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘ইয়োলোজোনে প্রধান চাপটা তৈরি হচ্ছে। কারণ এখানে উপসর্গ নিয়ে রোগী প্রথম ভর্তি হন। বর্তমানে ইয়োলোজোনে ২২টি বেডের বিপরীতে ৭২ জন ভর্তি আছেন।