রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই শতকের ঘর ছুঁয়েছে। গতকাল বুধবার নতুন করে আরও সাত জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩ জনে।বুধবারে রাজশাহী ও বগুড়ার ল্যাবে এই সাত জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ল্যাবে তিন জনের এবং বগুড়ায় চার জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) ২০২০ ইং রাতে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৬ জন। তার আগের দিন সোমবার ছিলো ৫২ জন। কিন্তু বুধবার ১’শত পার হয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩ জনে। বুধবার রামেকের ল্যাবে পাবনার দুইজন এবং নাটোরের একজনের করোনা শনাক্ত হয়। আর বগুড়ার ল্যাবে জয়পুরহাটের তিনজন এবং বগুড়ার একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।রাজশাহী বিভাগের মধ্যে এখন জয়পুরহাটে ৩২ জন, বগুড়ায় ২০ জন, নওগাঁয় ১৭ জন, রাজশাহীতে ১৩ জন, পাবনায় ১০ জন, নাটোরে ৯ জন এবং সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ জন করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে গোটা বিভাগের মধ্যে শুধু একজনেরই মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এই ল্যাবে ৭২ জনের নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৯ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ। বুধবারও ১৪৬ জনের নমুনা এসেছে এই ল্যাবে। তবে পরীক্ষার সক্ষমতা ৯৪টি। অতিরিক্ত নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকায়। এর আগে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় গত ১২ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলা তো বটেই, গোটা বিভাগের মধ্যে এখানেই প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর বুধবার পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় মোট ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ সর্বশেষ চারজনের করোনা শনাক্ত হয় জেলায়।আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ এপ্রিল সকালে রাজশাহীর সংক্রামক ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সী এক রোগী মারা যান। মৃত ব্যক্তির বাড়ি ছিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সে এলাকায় কুলাওয়ালা নামে পরিচিত । তার আক্রান্ত হওয়ার কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। আর এ পর্যন্ত যাহারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের সবার বাড়ি বিভিন্ন উপজেলায়। রাজশাহী মহানগরে এখনও করোনা পজিটিভ মেলেনি। তবে করোনার বিস্তার রোধে রাজশাহী জেলা সহ বিভাগের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলো এখন লকডাউনের আওতায় রয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩০ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল