মোঃ রফিকুল ইসলাম, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুর জেলার গোসাইকহরহাট উপজেলার কেন্দ্রে অবস্থিত উপজেলার একমাত্র 
কলেজ সরকারী শামসুর রহমাম কলেজের নবনির্মিত দ্বিতল মসজিদে আজ জোহর 
নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদের নামাজ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন 
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা( রাঃ) এর বংশোধর সৌদির বাদশাহ ফাহাদ মসজিদের খতিব শেখ আব্দুল্লাহ জাহরানী ও সরকারী শামসুর রহমান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা,বিশিষ্ট সমাজ সেবক,সনামধন্য শিল্পপতি বে-গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুর রহমান (শাহাজাদা মিয়া)।দুপুর ১.৩০ মিনিটে উক্ত কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও নব প্রতিষ্ঠিত আলহাজ্ব সফুরা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মকবুল হোসেন জোহর নামাজের ইমামতি করেন।নামাজ শেষে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীগণের প্রতি মসজিদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে আরবী ভাষায় বক্তব্য রাখেন শেখ আব্দুল্লাহ জাহরানী।তাঁর বক্তব্য বাংলায় তরজমা করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।শেখ আব্দুল্লাহ জাহরানী বলেন, মসজিদ হচ্ছে ইসলাম ধর্মের ইবাদতের জন্য পবিত্র স্থান। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নির্দশনা মোতাবেক প্রতিটি মুসলমানের মসজিদে নামাজ আদায়ের তাগিদ প্রদান করেছেন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীদের নিয়মিত নামাজ আদায় করা,সৎ ভাবে চলা এবং হালাল পথে উপার্জন করার আহ্বান জানান।মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় মুসল্লীদের উপস্থিতির মাধ্যমে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শামসুর রহমান বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন,সৌদী সরকার বাংলাদেশে মসজিদ নির্মানের জন্য অনুদান দিয়ে থাকেন।সেই সূত্রের আলোকে শেখ আব্দুল্লাহ জাহরানী সাথে সাক্ষাৎ করে এই মসজিদ তৈরির ব্যবস্থা করেছেন।শুধু তাই নহে,মসজিদ তৈরির জন্য তিনি মসজিদের নামে নিজের জমি ওয়াকফ করে দেন।কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব দৌলত আহমেদ চৌধুরী বলেন,১৯৮৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজ অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে নামাজের কোন স্থান ছিল না।কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শামসুর রহমান সাহেবের সুবাদে কলেজের জন্য স্থায়ীভাবে একটি মসজিদ হয়েছে।যার নামাজ কার্যক্রমের আজ থেকে যাত্রা শুরু। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নামাজ আদায় করতে আসা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও এলাকার লোকজন খুবই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।প্রকাশ থাকে যে,আলহাজ্ব শামসুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় এই মসজিদটি নির্মানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ষাট লক্ষ টাকা।তন্মধ্যে সৌদি সরকারের কাছ থেকে পাওয়া গেছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা এবং শামসুর রহমান নিজেও অর্থ সহায়তা দিয়ে নীচতলা সম্পন্ন করে আজ মসজিদে নামাজ আদায় কার্যক্রম শুরু করেন। এখনো দ্বিতীয় তলা ও গম্বুজের কাজ চলমান আছে। মসজিদের নির্মাণ কাজ দেখে সৌদি প্রতিনিধি সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরিশেষে তিনি মসজিদ নির্মান ও নামাজ আদায় করতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষ করেন।