রোস্তম আলী: রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
রংপুর মহানগরীর হনুমানতলা-জলকর সড়কটি এখন অন্যতম ব্যস্ত সড়ক, যার উপর
চারদিক থেকে সাঁড়াশি চাপ পড়েছে। রংপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়, পুলিশ লাইন্স স্কুল ও
কলেজ, চিকলী ওয়ার্টার পার্ক ও গংগাচড়া, তিস্তাব্রীজ মিলে দশদিকের দশ প্রকার যানবাহন
ও পথচারীদের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা এখানকার পথচারীদের। এরই মধ্যে চিকলীর অদূরে
কেডি ঘোষ ক্যানেলের কাছে দুটি দুর্ঘটনায় গত দুবছরে একটি শিশু ও একজন বৃদ্ধের
প্রাণহানি ঘটেছে।
হনুমানতলা-জলকর সড়কে এপার-ওপার রাস্তা পারাপার এখন অসাধ্য ব্যাপার। ফুটপাথ
ব্যবহারের উপযোগী নয়। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী জীবন হাতে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
যাতায়াত করে। প্রায় বিশটি ছাত্রাবাস আছে এলাকাটিতে। তারা হাঁসফাঁস করে অটোরিক্সা ও
প্রাইভেট কারের দূরন্ত চাপে।
মহাসড়ক থেকে পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজের সম্মুখের রাস্তাটি প্রস্থে বড়; কিন্তু এর সকল
যানবাহন চলে যায় হনুমানতলা-জলকর সড়কে, যার প্রস্থ ছোট। রাধাবল্লভ-রংপুর সরকারি
কলেজ হয়ে স্টেডিয়াম পার হয়ে ৩০ ফিট প্রশস্ত সড়কটি যোগ হয়েছে ঐ হনুমানতলায়, যার
প্রস্থ ২০ ফিট বা তারও কম, তাও আবার অবৈধভাবে ফুটপাথ দখলে রাখার চেষ্টা।
হারাগাছের যানবাহনগুলোর চাপও এই ছোট সড়কটির উপর। বড় বড় হাতির ভার পড়েছে
হনুমানতলা-জলকরগামী সড়কের ছোট ঘোড়ার কাঁধে। তার উপর এখানে চিকলী বিলে
সম্প্রতি জমজমাট আকারে জমে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। অথচ চিকলী যাওয়া-আসার একমাত্র
পথও এই হনুমানতলা-জলকর সড়ক।
চিকলী পর্যটনকেন্দ্রকে স্বাগত জানিয়েছে বিনোদন প্রত্যাশী আট জেলার মানুষ, যারা উত্তবঙ্গের
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একটু আনন্দ পেতে এখানে আসেন। কিন্তু হনুমানতলা-জলকর সড়কে যে
কোনো যানবাহনের জন্যই গলাচিপা অবস্থা। সেখানে বড় বাস ঢুকতে পারে না। যাত্রী
সাধারণ নিয়ে কোচের প্রবেশ কষ্টকর নয়, অসম্ভব ব্যাপার। ঢাকা থেকেও পর্যটক আসেন;
কিন্তু গলাচিপা এই সড়কে হাবুডুবু অবস্থায় পড়ে হাহুতাস করে। এর নাম আর যা-ই বলা
হোক, আধুনিকতা বা নগরীর উন্নয়ন বলা যাবে না।
এ বিষয়ে চিকলী ওয়ার্টার পার্কের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রচুর ইনভেস্ট করে চিকলী বিলে
অত্যাধুনিক ওয়ার্টার পার্ক নির্মাণ শুরু করেছি এবং আধুনিকায়নের কাজ চলমান, কিন্তু
দুঃখের বিষয় পর্যটক সরাসরি বড় গাড়ি নিয়ে পার্কে আসতে পারছে না। ফলে অনেক
আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তাই নগর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে করে দ্রুতই
সড়কটির বর্ধিতকরণ ও নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করে ওয়ার্টার পার্কটি যুগোপযোগি করার
কাজে আত্মনিয়োগ করেন।