নাটোরে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ॥ গ্রাম্য শালিসে প্রমাণ চাইলেন চেয়ারম্যান
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুরে কুজিপুকুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী রানা আলীর বিরুদ্ধে।
নৈশপ্রহরী রানা আলী ঐ গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য কিশোরী মেম্বরের ছেলে ও বর্তমান ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান নান্টুর শ্যালক। আর সে কারণেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। থানায় মামলা করতে যেতে চাইলে এলাকার মাতবররা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে নামমাত্র শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যেকর সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক মহলে চলছে নানা রকম শঙ্কা। পাড়া মহল্লায় চলছে নানা সমালোচনা। ভুক্তভোগি পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুজিপুকুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ঐ শিক্ষার্থীকে প্রায়ই বিরক্ত করতো বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রানা আলী।
তারই ধারাবাহিকতায় ৮ জানুয়ারী ঐ ছাত্রী খাতায় স্টেপলার করতে বিদ্যালয়ের অফিসে গেলে কোন শিক্ষক না থাকায় নৈশপ্রহরী রানা আলী তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ঐ ছাত্রীর চিৎকারে অন্য কøাসের শিক্ষার্থীরা অফিস কক্ষে ঢুকে পড়লে রানা তাকে ছেড়ে দেয়। গত ১১ জানুয়ারী ঐ ছাত্রীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে লম্পট রানা এবং তার লোকজন উল্টো তাদেরকেই দেশী অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেখালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে ৬নং দুয়ারিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি রুহুল আমিন সেখানে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে সেখানকার পরিবেশ শান্ত হয়। রুহুল আমিনের আশ্বাসের পরিপে্িরক্ষতে গত ১৬ জানুয়ারী গ্রামে একটি শালিস বসে। শালিস প্রধানরা অজ্ঞাত কারণে নামমাত্র শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।
উক্ত শালিসে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম লাভলু লম্পট রানার বিচার করা বাদ দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগি পরিবারের কাছে ধর্ষণ চেষ্টা হয়েছে এর সঠিক প্রমাণ চেয়ে বসেন। কিন্তু ভুক্তভোগি পরিবার প্রমাণ দিতে না পারায় লম্পট রানার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন চেয়ারম্যান।