-
- সারাদেশে, স্বাস্থ্য
- চিলমারীতে কষ্টে দিন কাটছে রঞ্জিনার পরিবার
- আপডেট সময় May, 2, 2020, 4:02 pm
- 201 বার পড়া হয়েছে
মোঃ হাবিবুর রহমান,চিলমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

অনেকে আগেই নদী গিলে খেয়েছে জমাজমি। সব কিছু কেড়ে নিয়ে গৃহহীন ও নিঃস্ব করেছে রঞ্জিনার পরিবারকে। সাজানো সংসার ভেঙ্গে পথে দাড় করিয়ে দিয়েছিল রঞ্জিনাকে। উপায় না থাকায় প্রায় ২৫ বছর আগে আশ্রয় নিয়েছিল রমনা সাতঘড়ি পাড়া বাঁধে। চিন্তা আর ভাবনায় পরপারে চলে যায় রঞ্জিনার স্বামী আঃ কাদের প্রায় ৮/১০ বছর আগে। অসহায় হয়ে পড়েন ৩ মেয়েকে নিয়ে তিনি। মেয়েদের মুখের দিকে দেখে বেঁচে নেন ‘ঝি’ এর কাজ। কখনো ‘ঝি’ কখনো চাতালের কাজ করে ৩ মেয়ের মুখে তুলে দিতেন খাবার। এরপর ও ছিল একটি আশ্রয়, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙ্গে দেয়া হয় তার শেষ আশ্রয় স্থান ও সম্বল ঘরটি। তিন মেয়েকে নিয়ে ভেঙ্গে পড়েন রঞ্জিনা। অনেক আকুতি মিনুতি করে পাশের এক বাড়ির বারাদ্দায় আশ্রয় নেন রঞ্জিনা। এরপরও শক্ত মনবল নিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের ঝড়ে বন্ধ হয়ে গেছে তার কাজ। বিত্তবানরা থাকছেন গৃহবন্দি হয়ে তাই তারাও বাহিরের কাউকে কাজে নিতে চায় না । ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রঞ্জিনা তিন মেয়েকে নিয়ে বড় কষ্টে দিন যাচ্ছে। নেই থাকার জন্য ঘর নেই স্থান এর উপর বাড়ছে খাবার কষ্ট। রয়েছে মেয়েদের নিয়েও বড় চিন্তা। বড় মেয়ে কলেজে, মেঝো মেয়ে শরীফের হাট স্কুলের ১০ম শ্রেনীর, ছোট মেয়ে একই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ছে। একে নেই থাকার ও খাবার ব্যবস্থা এর উপর মেয়েদের পড়াশুনা ও পোশাকের ব্যবস্থা। হাজারো চিন্তা নিয়ে বিপাকে রয়েছে রঞ্জিনা। রঞ্জিনা জানান, দুঃখে কষ্টে ভরা আমার জীবন তা শুনে আর কি করবেন লিখে আর কি হইবে। সবার মতো আমারও তো ইচ্ছা করে একটু ভালো খাবার ও ভালো পোশাক মেয়েদের দিতে কিন্তু কিভাবে দেবো। সারাদিন মানুষের বাড়ি বা চাতালে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে পেটেই ভরে না এর উপর অন্য চিন্তা করাটাই মুশকিল এর উপর এখন থাকার জায়গাও নেই ঘরও নেই। আর এখন করোনা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি চিন্তা, কেউ এখন কাজেও নিয়ে চাচ্ছেনা। ত্রাণের কথা বলতেই দুঃখের সাথেই বলেন আমাদের দিকে ওনারা চোখ দিবেন না, ওনারা তো নিজস্ব মানুষের দিকে দেখেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে শুধু রঞ্জিনা নয় বাঁধের পাশে এধরনের শতশত মানুষ কষ্টে থাকলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণের এক মুঠো চাল। সূত্র জানায় রমনা মডেল ইউনিয়নে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৯হাজার ৫শত। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার পরিবার চাকুরীজীবি ও বৃত্তবান। ছোট চাকুরীজীবি ও মধ্যবৃত্ত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। নিন্মবৃত্ত রয়েছে ২ হাজার পরিবার। বাকি পরিবার দুস্থদের মধ্যে। এর মধ্যে ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অধিনে সুবিধাভুগি রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। চলতি দুর্যোগ সময় সরকারী বরাদ্দ উক্ত ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে ১৫ মেঃটন। সেই অনুযায়ী তা বিতরনের কথা ১৫শত পরিবারের মাঝে এছাড়াও ছিল প্যাকেজ বরাদ্দ ত্রাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ বিতরন। এরপরও শতশত মানুষ এখন পর্যন্ত ত্রাণের সুবিধা না পাওয়ায় বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন সচেতন মহল। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজগর আলী জানান, ত্রাণ আসলে সকলেই আসে কি গরীব কি ধনী তবুও চেষ্টা করছি মানুষের পাশে থাকার। আর পরবর্তিত্বে কোন সুবিধা আসলে রঞ্জিনার বিষয়টি দেখবো। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, কোন পরিবার বা ব্যাক্তি সমস্যা আছে তা জানা মাত্রই তাদের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রঞ্জিনার ব্যাপারেও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। এদিকে সাহায্যেও জন্য ফোন করা হলে বাড়ীতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো ও মানবিক সহায়তার আবেদন নেয়ার জন্য রমনা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ছকিনা বেগম দায়িত্বে রয়েছেন তা নিজেই জানেননা বলে জানান সুবিধাভোগীকে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ২ মে ২০২০/ইকবাল
এ জাতীয় আরো খবর