March 5, 2024, 10:37 am

সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষক হাজির ২জন শিক্ষার্থীও হাজির ২ জন উলিপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চিলমারীতে এইড-কুমিল্লার ই-কমার্স বিষয়ে সচেতনতা মূলক র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ০৪ সদস্যকে গোপালগঞ্জের সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের চরের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিলো বাফলা পটুয়াখালীতে আগুনে পুড়ে গেছে মাছের আড়তসহ ৬ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটায় পালিত বিশ্ব বন্যপ্রানী দিবস পালিত হয়েছে শার্শায় মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে কসায়সহ দুজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোলায় ২২ লক্ষ মানুষের জন্য নেই ব্লাড ব্যাংক সুন্দরগঞ্জে মাদক ব্যবসা অবাধে চলছে নেই কোন প্রতিকার

কক্সবাজার জেলায় এইডস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

এইডস রোগীর সংখ্যা ৯ শতাংশ

কক্সবাজার জেলায় এইডস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক 

মায়ানমার রাখাইনে সামরিক বাহিনীর নির্যাতন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় পৈশাচিক নির্যাতনে পালিয়ে এসেছে ৬ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক। উখিয়ার টেকনাফের ১২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আরো ১০ হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছে মিয়ানমারের ওপারে ফাতেয়া ঢালার মুখে। আগত এসব রোহিঙ্গা নারী ও শিশু অধিকাংশই পুষ্টিহীনতা, চর্মরোগ, কানপঁচা, যক্ষ্মা, সর্দি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হেপাটাইটিস-বিসহ নানা রোগে আক্রান্ত। এসব রোগীদের চিকিৎসায় আরোগ্য করা সম্ভব হলেও মরণ ব্যাধি এইচআইভি এইডস রোগী নিয়ে খোদ চিকিৎসকরাই উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, এ পর্যন্ত ৯ শতাংশ এইডস রোগী সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শারীরিক মেলামেশা জনিত কারণে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উখিয়া টেকনাফের জনসাধারণের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, মাঠ পর্যায়ে স্ক্যানিং করে এইডস রোগী সনাক্তকরণের কাজ চলছে।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুস সালামের সাথে এইচআইভি এইডস রোগ নিরাময় বা প্রতিষেধক সম্পর্কে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দৈহিক সম্পর্কের কারণে এ রোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ১৯ জন এইডস রোগী থেকে বেড়ে বর্তমানে তা ৩৩ জনে উপনীত হয়েছে। তৎমধ্যে ১৮ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ৫ জন শিশু। তিনি বলেন, যেসব রোহিঙ্গা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসা ক্যাম্পে আসছে বা আগে থেকে এইডস রোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তারা ছাড়াও বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে এই রোগ থাকতে পারে। তারা মায়ানমার থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছে। বাকিরা এখানে এসে এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তৎমধ্যে ১ জন এইডস রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।


সূত্র জানায়, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে ৭ হাজার গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এসময় জন্ম নিয়েছে ৬৬৫ জন শিশু। ৮ জন ম্যালেরিয়া রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। ৬ লাখ ৭৯ হাজার রোহিঙ্গাকে কলেরার ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয়েছে। ১৬ হাজার ৮শ ৩৩ জন এতিম শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সমন্বিত টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডাক্তার মিজবাহ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা প্রাণ বাচাঁতে এদেশে পালিয়ে এসেছে ঠিকই। কিন্তু তারা আসার সময় নিয়ে এসেছে মরণ ব্যাধি এইচআইভি এইডসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ। তবে আতঙ্কের বিষয় হলো এ পর্যন্ত চিহ্নিত ৩৩ জন এইডস রোগীর চিকিৎসা নিয়ে। এ রোগ দিন দিন বাড়তে থাকায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, এইডস রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য আক্রান্তদের নিবিড় পরিচর্যা ও এক জায়গায় সীমাবদ্ধতার ভেতরে রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিজবাহ উদ্দিন জানান, এইডস রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বিষয়টি আরো জটিল হয়ে পড়েছে। মেডিকেল অফিসার আরএমও ডাক্তার আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯ শতাংশ এইডস রোগী। এ তালিকা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় বসবাসরত ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ, স্থানীয় আ’লীগ নেতা নুরুল হক খানসহ একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এইডস রোগী পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। তারা উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল টিম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুত এইডস প্রতিরোধক বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর