March 22, 2026, 8:33 pm

সংবাদ শিরোনাম
ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

আর কত লাশ পড়লে অশান্ত নবীগঞ্জ শান্ত হবে?

আব্দুস সামাদ আজাদঃ
নবীগঞ্জ—একসময় যার পরিচিতি ছিল উর্বর কৃষিজমি আর প্রাণচঞ্চল হাটবাজারের জন্য। কিন্তু এখন নাম উচ্চারণ করলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, আহতদের আর্তনাদ আর লাশের মিছিল। বারবার ঘোষণার পর সংঘর্ষ, অস্ত্রের ঝনঝনানি, নিরীহ কৃষক-শ্রমিকের মৃত্যুই যেন এখানে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে কয়েকটি গ্রাম। দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই প্রচণ্ড উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো করা হয়, তারপর শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ। লাঠি, দা, কিরিচ আর দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জনপদ। নিহত হন দুই সন্তানের জনক এক কৃষক যুবক। আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ।

ঘটনার পর গ্রামে নেমে আসে নীরবতা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অচল হয়ে যায় জনজীবন। হাট-বাজার ফাঁকা, দোকানপাট বন্ধ। শিশু-কিশোরেরা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। আহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। বৃদ্ধরা কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন—“কোথায় যাবে এ এলাকা? কবে থামবে এই রক্তপাত?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রভাবশালীরা সাধারণ মানুষকে ঢাল বানিয়ে নিজেদের ক্ষমতার খেলা চালাচ্ছে। অথচ মারা যাচ্ছেন নিরীহ কৃষক, দিনমজুর, তরুণ যুবক। প্রতিটি মৃত্যুর পরই পুলিশি টহল বাড়ানো হয়, মামলা হয়, কয়েকদিন চাঞ্চল্য থাকে—তারপর আবারও পুরোনো চিত্র।
সংঘর্ষে নিহত যুবকের স্ত্রী বুক ভেঙে কান্না জুড়ে দেন—“আমার স্বামী কী দোষ করেছিল? শুধু ভাতের জন্য মাঠে কাজ করত। কেন তার প্রাণ গেল?”—এই আর্তনাদই নবীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ের ভাষা। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবন।
প্রতিবার লাশের মিছিলে ভরে ওঠে গ্রাম, প্রতিবারই কাঁদে মায়ের বুক, নিঃস্ব হয় পরিবার। তবুও সংঘর্ষ থামে না। নবীগঞ্জের মানুষ তাই আজ একটাই প্রশ্ন তুলছে—আর কত লাশ পড়লে অশান্ত নবীগঞ্জ শান্ত হবে?

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর